দুই অটো জায়ান্ট হোন্ডা-নিশানের বিদ্যমান অংশীদারমূলক জোটে অংশ হতে যাচ্ছে আরেক জায়ান্ট মিৎসুবিশি মোটরস। বিশ্বব্যাপী বার্ষিক ৮০ লাখের বেশি গাড়ি বিক্রি করে এ জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। নতুন জোট তাদের বাজার ব্যবস্থাপনা ও নতুন উদ্ভাবনকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মত খাতসংশ্লিষ্টদের। খবর নিক্কেই এশিয়া।

টেসলা ও চীনা অটোমেকাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে (ইভি) প্রচুর বিনিয়োগ করছে। এর বিপরীতে জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ বা সরবরাহ চেইনে পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে কিছুদিন আগে একই প্লাটফর্মের কাজে উদ্যোগ নেয় হোন্ডা ও নিশান। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মিৎসুবিশি। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে জাপানি গাড়ি শিল্পে বড় ধরনের পুনর্গঠন হবে।

হোন্ডা ও নিশান মার্চে সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দেয়। তবে মিৎসুবিশির সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমানে তিন কোম্পানি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। হোন্ডা ও নিশান যথাক্রমে জাপানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম অটোমেকার। মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে কোম্পানি দুটি যথাক্রমে বিশ্বব্যাপী ৪১ লাখ ও ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করে। অন্যদিকে একই সময়ে মিৎসুবিশি মোটরস ৮ লাখ ১০ হাজার গাড়ি বিক্রি করে। সব মিলিয়ে তিন কোম্পানি গত অর্থবছরে ৮৩ লাখ ৫০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে।

অন্যদিকে জাপানের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা টয়োটা আরেকটি জোট তৈরি করেছে। ডাইহাৎসু, সুজুকি, সুবারু, মাজদা ও হিনো মোটরসের সঙ্গে চুক্তি করেছে কোম্পানিটি। এ পাঁচ অটোমেকারের সম্মিলিত বিক্রয়ের পরিমাণ বার্ষিক ১ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট।

প্রতিবেদন অনুসারে, হোন্ডা, নিশান ও মিৎসুবিশি গাড়ির নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারকে আরো উন্নত করতে চায়। নিশান ও হোন্ডা যৌথভাবে সফটওয়্যার বিকাশ করবে। মিৎসুবিশি মোটরস গাড়িতে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করছে।

পরবর্তী প্রজন্মের যানবাহনের বিকাশে গবেষণা বাবদ কোম্পানিগুলোকে প্রচুর অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা মুনাফা অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিগুলো একে অন্যের গাড়ির লাইনআপের পরিপূরক হিসেবেও বিবেচনা করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হোন্ডা, নিশান ও মিৎসুবিশির জোটের মাধ্যমে অটো শিল্পের বড় ধরনের সংকট সামনে এল, যা প্রতি ১০০ বছরে একবার ঘটে। কার্বন নিঃসরণ করে— এমন ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ক্রমেই সেকেলে হয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে উদীয়মান শক্তিগুলো ইভি খাত এগিয়ে যাওয়ায় জাপানি গাড়ি নির্মাতারা পিছিয়ে পড়ছে। এ চ্যালেঞ্জই জাপানি গাড়ি নির্মাতাদের জোটবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৩ সালে নিশান ও হোন্ডা বিশ্বব্যাপী যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ও ১৯ হাজার ইভি বিক্রি করেছে। উল্টো দিকে একই সময়ে টেসলা ও বিওয়াইডি যথাক্রমে ১৮ লাখ ও ১৫ লাখ ৭০ হাজার ইউনিট নিয়ে অনেক এগিয়ে ছিল।