আন্তর্জাতিক বাজারে ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে তামার দাম। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ঊর্ধ্বমুখী সুদহার এমন দরপতনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে দেখা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসী মুদ্রানীতি গ্রহণে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেকর্ড সুদহার বাড়ানোয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ধাতব পণ্যের চাহিদাও।
যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী সুদহার শেয়ারবাজারকে চাপের মুখে ফেলেছে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে ২০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এতে ডলারে লেনদেন হওয়া ধাতব পণ্য আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ক্রেতাদের কাছে এসব পণ্যের চাহিদাও কমছে সমানতালে।
এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ ধাতব পণ্য ব্যবহারকারী দেশ চীনে লকডাউনের কারণে এমনিতেই চাহিদা কম। তার ওপর চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাজারদরে আরো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে তামার দাম ১০ হাজার ৮৪৫ ডলারে উঠেছিল, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। তবে এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ধাতুটির দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) বাজার আদর্শ তামার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ৩৪২ ডলারে। কার্যদিবসের শুরুতে পণ্যটির দাম ৭ হাজার ১৬০ ডলারে নেমে গিয়েছিল।
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক অ্যালি হ্যানসন বলেন, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বাড়ছে সুদহার। এটি অর্থনীতিগুলোকে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য পণ্যের মতো এ পরিস্থিতির বলি হচ্ছে তামাও। ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলেও মূল্যস্ফীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সর্বশেষ দেশ হিসেবে কানাডা সুদহার ১ শতাংশ বাড়িয়েছে।
এদিকে চীনের শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, গত মাসে দেশটির তামা আমদানি এক মাসের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। মহামারীজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় গত মাস মাসের মধ্যে দেশটির রফতানি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনের বাজারগুলোয় তামার চাহিদা দুর্বলই রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৬-১২ মাসের মধ্যে তামার দাম কমে টনপ্রতি ৬ হাজার ৬০০ ডলারে নামতে পারে।
এদিকে শুধু তামাই নয়, অন্যান্য শিল্প ধাতুর দামও কমেছে। এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৫৮ ডলারে নেমেছে। দস্তার দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৯১৮ ডলার ও নিকেল ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ২১ হাজার ১৪৫ ডলারে নেমেছে।










