বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা চলতি বছর আরো কমতে পারে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য গতকাল প্রকাশিত শর্ট রেঞ্জ আউটলুক (এসআরও) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ড স্টিল)।

ওয়ার্ল্ড স্টিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৭৫ কোটি ২০ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। তবে আগামী বছর চীন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে ধাতুটির চাহিদা পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের চাহিদা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৭৭ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।

এ বিষয়ে জার্মান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ার্ল্ড স্টিল ইকোনমিকস কমিটির চেয়ারম্যান ড. মার্টিন থিউরিঙ্গার বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান ভোক্তা হ্রাস, ‌ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কঠোর মুদ্রানীতি ও অন্যান্য কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক ইস্পাত চাহিদা একটি কঠিন সময় পার করছে। নির্মাণ খাতে চলমান দুর্বলতা, আর্থিক নীতিতে বিভিন্ন শর্ত ও অতিরিক্ত খরচও ধাতুটির চাহিদা কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌ধারণা করা হচ্ছে, চীনসহ বিশ্বের কিছু প্রধান অর্থনীতির দেশে ইস্পাতের চাহিদা চলতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যেতে পারে। তবে চলতি ও আগামী বছর ভারতে ইস্পাতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। এছাড়া বেশির ভাগ উন্নয়নশীল দেশে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মন্দা কাটিয়ে চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে পারে।’

ড. মার্টিন থিউরিঙ্গার জানান, চলতি বছর চীনে ইস্পাতের চাহিদা ৩ শতাংশ ও আগামী বছর ১ শতাংশ কমতে পারে। তবে আগামী বছর দেশটির সরকার অর্থনৈতিক প্রণোদনা বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে চীন ছাড়া বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোয় চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী বছর এ বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

ভারত ২০২১ সাল থেকে বৈশ্বিক ইস্পাত চাহিদার শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চলতি ও আগামী বছর দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় বিশেষত অবকাঠামোসহ অন্য সব ইস্পাত ব্যবহারকারী খাতে ধাতুটির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। ওয়ার্ল্ড স্টিল জানায়, এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির মতো প্রধান ইস্পাত ব্যবহারকারী দেশগুলোর অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পতন চাহিদা কমার পেছনে ভূমিকা রাখবে। তবে আগামী বছর উন্নত বিশ্বে ইস্পাতের চাহিদা বাড়তে পারে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

এদিকে চলতি বছর বিশ্বের প্রধান বাজারগুলোয় আবাসনসহ অন্যান্য নির্মাণ খাতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে, যা ইস্পাতের চাহিদাকে আরো প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে ‌এ সময় গাড়ি নির্মাণ খাতও উল্লেখযোগ্য ধীরগতির মুখোমুখি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আগামী বছর ইস্পাতের চাহিদা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আগামী বছর বিশ্বের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, আর্থিক শর্ত শিথিলকরণসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-ভুক্ত দেশ ও জাপানের মতো প্রধান অর্থনীতির দেশে আয় বৃদ্ধির ফলে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।