ডলার সংকটে আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকগুলো। গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডলারের দাম কমাচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) থেকে প্রবাসী ও রফতানি আয় কেনায় ডলারের দাম কমবে ৫০ পয়সা। পাশাপাশি আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রিতেও দাম কমবে ৫০ পয়সা। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক।
দেশের ডলার সংকট নিরসনে গৃহীত নানা পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন
করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মো. মেজবাউল হক
জানান,
বাফেদা রফতানি, রেমিট্যান্স ও আমদানি সব
ক্ষেত্রেই ডলারের দাম ৫০ পয়সা কমিয়েছে। এতে করে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বাড়বে, যেটা এতদিন ছিল উল্টো। আমদানি কমে যাওয়ায় ডলার
চাহিদা কমে এসেছে এবং আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বিল পরিশোধের চাপ
একেবারে কমে আসবে বলেও আশা করেন তিনি।
এক প্রশ্নের
জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বেশিরভাগ ব্যাংকের
কাছেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডলার আছে। পক্ষান্তরে সংকটেও রয়েছে কিছু ব্যাংক। এসব
ব্যাংকের গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী ঋণপত্র খুলতে পারছেন
না। তাই তারা বাধ্য হয়ে অন্য ব্যাংকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কতগুলো ব্যাংক সংকটে আছে
জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, ২১ ব্যাংক ডলার সংকটে আছে। এর
বিপরীতে ৩৯ ব্যাংকের কাছে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে।
রিজার্ভ থেকে
ডলার বিক্রির প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক
বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে
সরকার তার প্রয়োজনে ডলার নেয়। প্রয়োজন হলে দেশের স্বার্থে সেটা দিতে হয়। বন্ধ করার
কোনো সুযোগ নেই। দেশের ডলার খরচের মূল খাত দুইটি। আমদানি
মূল্য পরিশোধ করা এবং সেবামূল্য পরিশোধ করা। দুই জায়গায়ই আমরা চাহিদা কমাতে সক্ষম হয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের ডলার পরিশোধের
পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা এর মধ্যে বেশ কিছু পণ্য আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছি। পাশাপাশি এখন দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্র খোলার হার কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা এখন বেশিরভাগই তাৎক্ষণিক ঋণপত্র খোলেন। তাই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ডলার সংকটের পাশাপাশি দেশের মূল্যস্ফীতি ও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা করে মূল্য কমিয়ে আমদানিতে ১১০ টাকা ৫০
পয়সা এবং রফতানি ও রেমিট্যান্স ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
মধ্যস্থতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা
লেনদেনকারী ব্যাংকের সংগঠন বাফেদার যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।










