চলতি বছর মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের বৈশ্বিক ঘাটতি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে রাশিয়ার নরনিকেল। কার ইন্ডাস্ট্রিতে ধাতুটির নিম্নমুখী চাহিদা ঘাটতি কমাতে সহায়তা করছে। বছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ট্রয় আউন্সে নামতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও চিপ মার্কেটে সংকট থেকে খুব ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার কার উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ খাতে প্যালাডিয়ামের চাহিদাও কমছে।
বিশ্বের শীর্ষ প্যালাডিয়াম উত্তোলক প্রতিষ্ঠান নরনিকেল। এছাড়া উচ্চগ্রেডের নিকেলও উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটির ওপর কয়েক ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু রুশ প্রতিষ্ঠান নরনিকেল এখনো নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েনি।
বৈশ্বিক প্যালাডিয়াম উত্তোলনের ৪০ শতাংশই আসে নরনিকেল থেকে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনেই আন্তর্জাতিক ক্রেতা দেশগুলোয় ধাতব পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বল্পতা, লজিস্টিকস সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তা সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারেনি। সম্প্রতি নরনিকেলের এক বাজার পর্যালোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
খনি মালিকরা বলছেন, রাশিয়ান নিকেল রফতানিতে এখন পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পাশাপাশি চুক্তির সব ধরনের দায়বদ্ধতা পরিপালন করছে নরনিকেল।
উচ্চগ্রেডের বৈশ্বিক নিকেল উত্তোলনের ২০ শতাংশই আসে নরনিকেল থেকে। ফলে বাণিজ্য নেটওয়ার্ক থেকে রাশিয়াকে বাদ দিলে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ ও নিকেলের বৈশ্বিক বাজার বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর নিকেলের বৈশ্বিক বাজারে ৩৭ হাজার টনের উদ্বৃত্ত থাকবে। আগামী বছর উদ্বৃত্ত বেড়ে ১ লাখ ৩ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। তবে এর বেশির ভাগই হবে নিম্নগ্রেডের নিকেল। উদ্বৃত্ত বাড়ার পেছনে নতুন উত্তোলন সক্ষমতা ভূমিকা পালন করবে।
খনি মালিকরা বলছেন, আগামী বছর অটোমোবাইল খাতে চাহিদা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর প্যালাডিয়ামের বাজার ভারসাম্য বজায় থাকবে, বাড়বে সরবরাহ।
উত্তোলকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক বাজারে তিন লাখ আউন্স প্যালাডিয়ামের ঘাটতি থাকতে পারে। এ সময় উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪২ হাজার টনে।










