খরচ কমাতে বিশ্বের বহু প্রতিষ্ঠানই কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। এবার সে তালিকায় যুক্ত হলো সুইডেনভিত্তিক টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এরিকসনের নাম। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাড়ে আট হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর এএফপি।
২০২২ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে এরিকসনের কর্মী সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫২৯। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকায়ই রয়েছে ১১ হাজার ৯৯৪ জন। শুরুতে জানা গিয়েছিল, ৮ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাড়ে আট হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেই এ সিদ্ধান্তের বেশির ভাগ বাস্তবায়ন হবে। বাকিদের ছাঁটাই হবে ২০২৪ সালে।
সবশেষ গত মাসে ২০২২ সালের আয়ের যে হিসাব পাওয়া যায়, তা ছিল এরিকসনের জন্য হতাশাজনক। সে সময় নিট মুনাফায় ১৭ শতাংশ পতনের মুখোমুখি হয় কোম্পানিটি। বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে বিভিন্ন খাতে খরচ কমিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সে সময়ই ৮৬ কোটি ডলারের ব্যয় সাশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দিতে শুরু করে এরিকসন।
এরিকসনের মুখপাত্র জেনি হেডেলিন বলেন, ‘অবকাঠামো খাতের খরচ আরো কমিয়ে দিতে চাই আমরা। পাশাপাশি পরিষেবা সরবরাহ, রিয়েল এস্টট ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও কাজ করছি আমরা। এসব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দুঃখজনকভাবে কিছু কর্মী কমিয়ে ফেলতে হবে আমাদের। ধারণা করছি, এতে সাড়ে আট হাজার কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলা হবে। সে অনুযায়ী বাজারভেদে একেক দেশে একেক পরিমাণ কর্মীসংখ্যা কমানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে, যথাযথ সম্মান ও পেশাদারত্ব বজায় রেখে এবং স্থানীয় শ্রম আইন অনুসারে বাস্তবায়ন হবে। কর্মীরাই সবার আগে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানবেন।
২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ৮৬ কোটি ডলার ব্যয় কমাতে চায় এরিকসন। কোম্পানিটির প্রত্যাশা, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকেই ব্যয় সাশ্রয়ের প্রভাব দেখতে পাওয়া যাবে।
ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের যন্ত্রাংশ নির্মাণে এরিকসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ফিনল্যান্ডের নকিয়া ও চীনের হুয়াই। ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর শুক্রবার পর্যন্ত এরিকসনের শেয়ারদর স্থিতিশীল ছিল।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসা সামাল দিতে মেটা ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানও কর্মী ছাঁটাই করেছে।










