সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সব কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে কাজ করছে ভারত। এর মাধ্যমে দেশটিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে দেশটি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে, যা বিনিয়োগের নতুন খাত তৈরি করছে। খবর দ্য ন্যাশনালনিউজ।

ভারতীয় ডিজিটাল কমার্স সলিউশন কোম্পানি ভায়াপ্যারিফাইয়ের হিমানশু ভায়াস জানান, এ খাতে অগ্রগতি হলেও এখনো বড় বাধা অতিক্রম করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতে বর্তমানে ডিজিটাল পরিষেবার চাহিদা আকাশচুম্বী। কিন্তু যে অবকাঠামো রয়েছে, তা বিপুল এ জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।’

হিমানশু ভায়াস বলেন, ‘ভারতে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। এর থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন। ডিজিটাল জগতের বিভাজন কমাতে ও ইন্টারনেট ব্যবহারের গুণগত মান উন্নয়নে আরো বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি খাত এবং বিদেশী ও দেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আরো বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। 

২০২৬ সাল নাগাদ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহার সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নে সরকারকে কাজ করতে হবে। বিজনেস সফটওয়্যার সলিউশনস কোম্পানি ক্যাপ্টেনবিজের প্রধান নির্বাহী ইয়াশরাজ ভাকিল বলেন, ‘দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল বাজারের মধ্যে ভারত অন্যতম। দেশটিকে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ করতে হবে এবং নতুন ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে হবে।’

ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়নে সম্প্রতি ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত ডাটা সেন্টারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

গত সপ্তাহে দেয়া এক বিবৃতিতে আরব আমিরাতে বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন চুক্তির অধীনে দেশ দুটি যৌথভাবে ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে। যেখানে এসব প্রকল্পের বিকাশে প্রযুক্তিগত ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা অন্বেষণ, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হবে। 

আইসিআরএ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লাউড, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফাইভজির ব্যবহার ভারতের ডিজিটালাইজেশনের জন্য সহায়ক। আর এ কারণে ডিজিটাল অবকাঠামোর উ্ন্নয়ন প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ভারতের ক্রেডিট রেটিংস সংস্থাটি জানায়, আগামী ছয় বছরে ৫ হাজার ১০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ডাটা সেন্টার স্থাপনে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন রুপি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। এ কারণে ভারত বর্তমানে ডাটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতকে এখনো অনেক কাজ করতে হবে। তবে দেশটি অল্প সময়ে ভালো অগ্রগতি করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্বমানের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভারতের প্রশংসা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছে এমন উদ্যোগগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন কোম্পানি এরই মধ্যে ভারতে ডিজিটাল খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে এবং করছে বলে জানিয়েছেন হিমানশু ভায়াস।