মহাকাশে প্রতিনিয়ত মানুষের পদচারণা বাড়ছে। পৃথিবীর কক্ষপথে সম্প্রসারণ হচ্ছে প্রযুক্তি। সুযোগ তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবনের। কমছে উেক্ষপণের খরচ। আশা দেখাচ্ছে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ও উৎপাদনের মতো কার্যক্রমেরও। এভাবে সময়ের সঙ্গে বাড়ছে মহাকাশ শিল্পের বাজার। সিটিগ্রুপের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে মহাকাশ শিল্পের বার্ষিক আয় ১ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছবে। খবর সিএনবিসি।

চলতি মাসে মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশে প্রবেশ বা উেক্ষপণ খরচ কমে গেলে সেটি প্রযুক্তিগত সম্প্রসারণ ও উদ্ভাবনের জন্য আরো সুযোগ তৈরি করবে। এটি কক্ষপথে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ও উৎপাদনের মতো আরো পরিষেবা উন্মুক্ত করবে। এর আগে অন্যান্য মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি, ব্যাংক অব আমেরিকার প্রতিবেদনেও এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

স্পেস ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুসারে, ২০২০ সালে মহাকাশ শিল্পের বাজার ৪২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০১০ সাল থেকে বাজারটি ৭০ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে।

সিটি জানিয়েছে, স্যাটেলাইট খাতের আয়ের সিংহভাগই আসে উৎপাদন, উেক্ষপণ পরিষেবা ও গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট থেকে। তবে এ খাতের দ্রুত বৃদ্ধি নতুন স্পেস অ্যাপ্লিকেশন ও শিল্প থেকে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে আয় শূন্য থেকে ১০ হাজার ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়বে।

এক দশক ধরে মহাকাশ সংস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ বিশেষ করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতি বছর রেকর্ড ভাঙছে। স্পেস ক্যাপিটাল অনুসারে, গত বছর স্পেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানিগুলো ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ পেয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৭০০ সংস্থায় বিনিয়োগের তথ্য পর্যালোচনা করেছে। যদিও গত বছর মহাকাশ সংস্থাগুলো বড় একটি ধাক্কা খেয়েছে। শিল্পের বৃদ্ধি সত্ত্বেও বেশির ভাগ সংস্থার শেয়ারদর নিম্নমুখী হয়েছে। পরিবর্তনশীল বাজারের পরিবেশ ও ক্রমবর্ধমান সুদের হার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর এবং ক্রমবর্ধমান প্রবণতায় কঠোর আঘাত করে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রায় এক ডজন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি কমেছে।

সিটিগ্রুপের আশাবাদী পূর্বাভাস সত্ত্বেও এ শিল্পের অনেক কিছুই এখনো অনুমাননির্ভর রয়ে গেছে। যেমন মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি, চাঁদ বা গ্রহাণুতে খনি, মহাকাশে সরবরাহ চেইন বা কার্গো পরিবহন, মহাকাশ পর্যটন, আন্তঃনগর রকেট ভ্রমণ, মাইক্রোগ্র্যাভিটি ও নির্মাণ খাত।

সিটির মতে, উেক্ষপণের খরচ হ্রাসের মাধ্যমে ১ লাখ কোটি ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি তৈরি হবে। এ খরচ ১৯৮০ দশকের চেয়ে এরই মধ্যে প্রায় ৪০ গুণ কমে গেছে। মহাকাশ শিল্পের বাজারের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে স্যাটেলাইট। এ খাতের আকারই পুরো বাজারের ৭০ শতাংশেরও বেশি। যদিও স্যাটেলাইট আয় প্রধানত টেলিভিশনের মতো পরিষেবাগুলো থেকে এসেছে। এটি এখন গ্রাহক ব্রডব্যান্ড থেকে মোবাইল ইন্টারনেট পর্যন্ত পরিষেবায় বিস্তৃত হচ্ছে। ব্যাংকটি বিশ্বাস করে স্পেসএক্সের স্টারলিংক ও অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপারের বিস্তৃত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলো বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে।

মহাকাশ রাজস্বের আরো একটি খাত স্যাটেলাইট ছবি। বর্তমানে পুরো খাতে এটির অবদান প্রায় ২ শতাংশ বা ২৬০ কোটি ডলার। ২০৪০ সাল নাগদ স্যাটেলাইট ছবি থেকেও বার্ষিক ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয় আসবে।

যদিও মহাকাশ অর্থনীতির সম্প্রসারণ খুব বেশি সহজও হবে না। সেখানকার কঠিন পরিবেশ, বিপুল পরিমাণ মূলধন ব্যয় এবং প্রকল্পগুলোর রিটার্ন পেতে দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা এটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।