পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ব্যবহারের লক্ষ্যে চীনে তামার চাহিদা বাড়ছে। গত মাসে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুসারে, গত মাসে অ্যানোড, রিফাইনড, অ্যালয় ও সেমি ফিনিশডসহ সব ধরনের তামা আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৫৪ দশমিক ১ টনে।
আগস্টে দেশটি ৪ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৮ দশমিক ৬০ টন তামা আমদানি করেছিল। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চীনে ধাতব পণ্যের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। কারণ এ সময় গ্রীষ্মকালীন রক্ষণাবেক্ষণ শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন শুরু করে।
সিআইইউ গ্রুপের দেয়া তথ্যমতে, বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ধাতুটির চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। চলতি বছর মোট চাহিদা দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে। মোট চাহিদা খুব বেশি না বাড়লেও অটোমোবাইল ও জ্বালানি খাতে চাহিদা বাড়বে ৪ শতাংশ হারে। ঠিক একই সময় অবকাঠামো নির্মাণ খাতে চাহিদা ৪ শতাংশ কমতে পারে।
এএনজেডের সাম্প্র্রতিক পূর্বাভাস বলছে, চীনের বিদ্যুৎ সংকটও তামার চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করছে। কারণ সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রিড সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেয়ায় এসব ক্ষেত্রে নতুন করে তামার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এছাড়া বায়ু বিদ্যুতের জন্য টারবাইন ও সৌর প্যানেল স্থাপনেও তামার ব্যাপক চাহিদা দেখা দিচ্ছে।
শুধু চীনেই নয়, বিশ্বজুড়েই তামার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে তুলনায় পিছিয়ে ব্যবহারিক ধাতুটির উত্তোলন। ভারসাম্য বজায় রাখতে ৩০ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক তামা উত্তোলন বর্তমানের তুলনায় বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বিএইচপি গ্রুপের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিক সালারিয়া।
সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত চায়না ননফেরাস মেটালস ইন্ডাস্ট্রি চেইন কনফারেন্সে দেয়া ভিডিও বার্তায় তামার উত্তোলন বৃদ্ধির বিষয়ে তারিক সালারিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তামার চাহিদা ও সরবরাহে বিদ্যমান চিত্র সন্তোষজনক নয়। শিগগিরই বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে। পরবর্তী ৩০ বছরের মধ্যে তামার বৈশ্বিক উত্তোলন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করতে হবে।










