চাহিদা কম থাকার কারণে চীনের কারখানা কার্যক্রম মে মাসে পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি সংকুচিত হয়েছে। ফলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে বাড়তি চাপ তৈরি করছে নীতিনির্ধারকদের ওপর। রয়েছে এশিয়ার বাজার নিম্নমুখী থাকার ঝুঁকি। খবর রয়টার্স। 

ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) ৪৮ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, এপ্রিলে পিএমআই ছিল ৪৯ দশমিক ২, যা ৫০ পয়েন্টের চেয়ে কম। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের উপরে থাকলে কারখানার কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। নতুন কার্যাদেশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহের সময় ও স্টক লেনদেন পর্যালোচনার মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। বর্তমান জরিপে দেখা যায়, পরিষেবা খাতে মে মাসে কার্যক্রম বেড়েছে সবচেয়ে মন্থরগতিতে। নন-ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে পিএমআই ৫৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে ৫৪ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। 

জোনস ল্যাং লাসেলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস ফ্যাংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পিএমআইয়ের উপাত্তই প্রমাণ করে চীন কে-শেপড পুনরুদ্ধারের দিকে হাঁটছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মন্থর হচ্ছে দেশটির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। যদি দক্ষ ও কার্যকর নীতিমালা গৃহীত না হয়, তাহলে আরো বেশি বাধাপ্রাপ্ত হবে প্রত্যাশিত গতি।

এশিয়ার অন্যান্য দেশেও পিএমআই উপাত্তে কারখানা কার্যক্রমে মন্থরতা উঠে এসেছে। জাপানে উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ব্যাহত হয়েছে কার্যক্রম। প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিতেও। প্রায় তিন বছর পর মহামারীর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে চীন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা। কিন্তু কারখানা, স্থাপনা ও রফতানিনির্ভর খাতগুলোয় প্রত্যাশিত গতি না থাকায় সুবিধা করে উঠতে পারছে না। চাহিদা কম থাকার কারণে রফতানি সংকুচিত হয়েছে। ফলে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রফতানি কমেছে মে মাসে। কেমিক্যাল, ফেরাস মেটাল ও শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ কমেছে উল্লেখযোগ্য। পরিষেবা খাত, রেল ও উড়োজাহাজ পরিবহন, আবাসন ও রেস্তোরাঁ খাত এখনো সম্প্রসারণের দিকে। শ্রমিক দিবসের ছুটির জেরে গতি বেড়েছে খাতগুলোয়। যদিও রিয়েল এস্টেট খাতের সূচক নিম্নমুখী।

পিএমআই সূচক প্রমাণ করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া গতি হারাচ্ছে ক্রমে। এপ্রিলে আমদানি সামান্য কমেছিল। কমেছে পণ্যে বিনিয়োগ। শিল্প-কারখানার মুনাফা কিংবা কারখানার উৎপাদন ও খুচরা বিক্রয় খাত—কোনোটাই প্রাক্কলন রেখা স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে বিশ্লেষকরা পরবর্তী প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে সূচকও কমিয়ে ধরেছেন। এদিকে পরিস্থিতিকে নাগালের মধ্যে আনতে ক্রেডিট বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শর্ত নমনীয় করবেন। লি কিয়াং বলেছেন, চাহিদা বাড়ানোর জন্য এ মাসে আরো বেশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যদিও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৫ মে থেকে দৃঢ়ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে পিনপয়েন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ চিওয়েই চাং দাবি করেছেন, অর্থনীতির অবস্থা বেশ বিশৃঙ্খল। এখন পর্যন্ত বিষয়টি স্পষ্ট না যে সরকার কীভাবে বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান হাজির করবে।

তবে দ্রুত কোনো পদক্ষেপের কোনো চিহ্ন আপাতত নেই। সরকার হয়তো কেবল দেখে যাওয়ার নীতিই গ্রহণ করতে পারে।