১ অক্টোবর থেকে মিয়ানমারে শুরু হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছর। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (১ অক্টোবর-২২ নভেম্বর) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫ লাখ ২০ হাজার টন চাল (ভাঙা চালসহ) রফতানি হয়েছে। খাদ্যপণ্যটি রফতানি বাবদ এ সময়ে দেশটির আয় হয়েছে ১৫ কোটি ডলার। মিয়ানমার রাইস ফেডারেশন (এমআরএফ) সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর ইলেভেন মিয়ানমার।

এমআরএফের তথ্য অনুযায়ী, মোট রফতানীকৃত চালের ১ লাখ ৬০ টন হিস্যা রয়েছে ভাঙা চালের দখলে, যার রফতানি গন্তব্য ছিল ৩৩টি দেশ এবং এ খাতে দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। এদিকে ৪০টি দেশে বাকি ৩ লাখ ৬০ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা থেকে দেশটি আয় করেছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এদিকে মোট রফতানীকৃত চালের মধ্যে ৮৩ শতাংশ বা ৪ লাখ ৪২ হাজার টন রফতানি হয়েছে সমুদ্রপথে, যা থেকে দেশটির আয় হয়েছে ১৩ কোটি ডলারের কাছাকাছি। সমুদ্রপথে প্রধানত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আফ্রিকার বাজারে পণ্যটি রফতানি করেছে মিয়ানমার। এদিকে স্থলপথে ৮১ হাজার টন চাল রফতানি করে দেশটি আয় করেছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি, যার অধিকাংশের গন্তব্য ছিল প্রতিবেশী দেশ চীন।

এমআরএফের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের অর্থবছরজুড়ে দেশটি থেকে বিশ্ববাজারে মোট ২০ লাখ টন চাল রফতানি করা হয়, যা থেকে ৭০ কোটি ৯০ লাখ ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল রফতানিতে দেশটি আগের ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছিল। ওই সময়ে  মিয়ানমার ৩৬ লাখ টন চাল রফতানি করে রেকর্ড গড়ে।

তবে এ মুহূর্তে পণ্যটি রফতানি হ্রাসের পেছনে বেশকিছু সমস্যাকে দায়ী করেছে এমআরএফ। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দামে মন্দা ভাব এর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া দেশটিতে কৃষিপণ্যটি সংরক্ষণে পর্যাপ্ত গুদামের অভাব রয়েছে। এদিকে পরিবহনে যানবাহন সংকটের কারণে স্থলপথে চালের রফতানি নিম্নমুখী রয়েছে। শুধু বেসরকারি উদ্যোগে এসব সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মিয়ানমারের উপবাণিজ্যমন্ত্রী অং হটো জানিয়েছেন, চীনের বাজারে ১১টি কোম্পানি চাল রফতানি করে। তবে আরো ৪০টি কোম্পানি চাল রফতানি করতে ইচ্ছুক। এসব কোম্পানির তালিকা চীনে পাঠানোর পর দেশটিতে আরো বেশি চাল রফতানি হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।