ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের সরাসরি ইন্স্যুরেন্স সেবা দিতে ব্যাংকান্স্যুরেন্স সেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক অনুষ্ঠানে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বীমা খাতের সম্ভাবনা অনেক। ব্যাংক নেটওয়ার্ক এ খাতকে আরো সম্প্রসারিত করবে। ব্যাংকান্স্যুরেন্সের ফলে বীমার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অমল কৃষ্ণ মণ্ডল।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ব্যাংকান্স্যুরেন্স হলো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে ইন্স্যুরেন্স প্রডাক্ট বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একটি যৌথ উদ্যোগ। ব্যাংকান্স্যুরেন্স সেবা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছ থেকে অনুমতি ও লাইসেন্স পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকটি গ্রাহকদের মেটলাইফ বাংলাদেশ ও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ইন্স্যুরেন্স প্রডাক্ট অফার করবে। গ্রাহক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আরো বেশি বীমা কোম্পানির সঙ্গে ব্যাংকান্স্যুরেন্স চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্যাংকটির।জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা উভয় ক্ষেত্রেই গ্রাহকরা দেশব্যাপী ব্র্যাক ব্যাংকের সব ব্রাঞ্চ থেকে এ সুবিধা নিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, ‘সচেতনতার অভাবে বীমা খাতে আমরা পিছিয়ে আছি। মানুষের কাছে যথাযথভাবে আমরা বীমা পণ্য তুলে ধরতে পারিনি। বীমার সম্ভাবনা অনেক। ব্যাংক ও বীমার মধ্যে যে যোগসূত্র তৈরি হলো, এটা আরো প্রসারিত হবে। ব্যাংকের নেটওয়ার্ককে বীমার জন্য কাজে লাগানো যাবে। আমরা রেগুলেটরি বডি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে দিয়েছি। এটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, ‘বীমা দাবি যথাযথভাবে পূরণ না হওয়ায় আস্থা কমেছে। ব্যাংকান্স্যুরেন্সের ফলে বীমার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংকান্স্যুরেন্স চালু করবে আশা করছি।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক সচিব অমল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘ব্যাংকান্স্যুরেন্সের ফলে বীমা পণ্য বিক্রি সহজ হবে। গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।’ 

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকান্স্যুরেন্সের ফলে এক সেক্টরের গ্রাহক অন্য সেক্টরের সার্ভিস নিতে পারবেন। আমরা মনে করি, এখানে দুই আর দুই মিলে চার হবে না, পাঁচ কিংবা ছয় হবে। আমরা অনেক যাচাই-বাছাই করে মেটলাইফ ও গ্রীন ডেল্টাকে পার্টনার হিসেবে নিয়েছি। এটা সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার এবং আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বীমা ব্যবসাকে আরো ত্বরান্বিত করবে। দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নতি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি বীমা পণ্যের চাহিদাও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির মধ্যে এ সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ফলে গ্রাহকরা সহজেই ইন্স্যুরেন্স প্রডাক্টগুলো নিতে পারবেন, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস আরো বাড়বে।’

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলা উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তিনজন মেটলাইফের গ্রাহক। এরই মধ্যে একজনের মৃত্যুদাবি পূরণ করা হয়েছে। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ও অন্যতম বিশ্বস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে ব্যাংকান্স্যুরেন্স উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য বীমার পরিধি প্রসারিত করতে চাই। এ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আরো বেশি মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় মেটলাইফের বিশ্বমানের বীমা সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।’

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। এতে ব্যাংক ও বীমা খাতের মধ্যে দূরত্ব কমবে। বোঝাপড়াটা বাড়বে। বীমা খাতে আস্থা ফিরে আসবে। ব্যাংকান্স্যুরেন্স বীমার জন্য একটি বিকল্প বিতরণ চ্যানেল তৈরি করবে, যা বীমা সেবাকে আরো প্রসার করবে। এটি দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে, বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বীমাকে আরো সুবিধাজনক করে তুলবে।’

ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এসএমই ব্যাংকিং প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের ১৮৭টি শাখা ও ৪০টি উপশাখায় ব্যাংকান্স্যুরেন্স সেবা পাওয়া যাবে।’ অনুষ্ঠানে চিফ ব্যাংকান্স্যুরেন্স অফিসার মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।