বিশ্বে বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউনিটের মূল্য কমে গিয়েছে। বিশেষ করে এ খাতে অন্যতম ঋণদাতা ঋণ প্রদান বন্ধের পাশাপাশি প্লাটফর্ম থেকে অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর এপি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে এটি একটি বড় ধরনের পতন। মূল্যহ্রাসের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্রিহুইলিং শিল্পটির নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত সোমবার বিটকয়েনের বাজারদর ছিল ২২ হাজার ৪০০ ডলার, যা এর আগের দিনের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। গতকাল ভার্চুয়াল এ মুদ্রার দাম ২০ হাজার ৮২৪ ডলারে নেমে যায়। এ হার ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

আরেকটি প্রচলিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ইথেরিয়ামের মূল্যও ১৭ শতাংশ কমেছে। ফেডারেল রিজার্ভ উচ্চমূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়ানো ফলে বিনিয়োগকারীরা ডিজিটাল মুদ্রা এবং প্রযুক্তির স্টকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করছে। গত রোববার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্লাটফর্ম সেলসিয়াস নেটওয়ার্ক এক ঘোষণায় অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে সব ধরনের অর্থ আদান-প্রদান ও উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

সেলসিয়াসের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যার ১৭ লাখ এবং প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ রয়েছে। পুনরায় কবে ব্যবহারকারীরা আবার তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। গ্রাহকদের আমানতের বিনিময়ে কোম্পানি কিছু অ্যাকাউন্টে ১৯ শতাংশের ওপর অর্থ দিচ্ছে। সেলসিয়াস আমানতগুলো গ্রহণ করে সেগুলো ধারের জন্য ব্যবহার ও মুনাফা তৈরি করে।

গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে সেলসিয়াসসহ অন্যান্য ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যে হারে মুনাফা দিয়ে থাকে সেটি সাধারণ মার্কেটে গ্রহণযোগ্য নয়। এ হারের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা এ পদ্ধতিকে পঞ্জি স্কিম বলে আখ্যা দিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো ওরদুনা বলেন, প্রায় এক বছর আগে অধিক মুনাফা দেয়ার প্রত্যাশার কারণে তিনি সেলসিয়াসে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী হন।

ওরদুনা বলেন, সেলসিয়াস থেকে প্রতি সপ্তাহে সুদের অর্থ পরিশোধ করা হতো। তাই যে কেউ এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি রয়েছে সেটি এড়িয়ে যাওয়ার সাহস করতে পারত। গত সপ্তাহে সেলসিয়াস থেকে সব অর্থ বের করে নিলেও এখনো প্লাটফর্মে তার কিছু সম্পদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটল। মে মাসের প্রথম দিকে স্টেবলকয়েন টেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাত্র ১ ঘণ্টার ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি ডলার হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। অন্যান্য কারেন্সির পরিবর্তে স্ট্যাবলকয়েনকে নিরাপদ ভাবা হয়। কেননা তাদের কার্যক্রম স্বর্ণ বা অন্যান্য মুদ্রার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে বলে কথিত রয়েছে।

টেরার মতো সেলসিয়াসও ক্রিপ্টোকারেন্সি হোল্ডারদের তহবিল জমা করার একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানাতে প্রচার চালিয়েছিল। এমনকি সেলসিয়াস যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন ওয়েবসাইটে দেয়া এক বার্তায় ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় তাদের কয়েন সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানানো হয়েছিল।