ব্রাজিলে সয়াবিন উৎপাদন কমার পূর্বাভাস মিলেছে। চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে তেলবীজটির আবাদ কমে যেতে পারে। এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রাজিলের কৃষিপণ্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এজিরুরাল।

প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি সয়াবিন উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ১৩ কোটি ৩৪ লাখ টন উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পূর্বাভাসে তা কমিয়ে ১২ কোটি ৮৫ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এজিরুরাল জানায়, ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ রাজ্যে সয়াবিন আবাদ অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। এ অঞ্চল সম্প্রতি শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শীর্ষ উৎপাদন অঞ্চল মাতো গ্রোসো দো সোলেও উৎপাদন কমতে পারে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস চলতি বিপণন মৌসুমে দেশটির সয়াবিন আবাদি জমির পরিমাণ কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ব্রাজিলে সয়াবিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে ৪ কোটি ৪ লাখ টনে নামতে পারে।

বিদায়ী বছরে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ২০২১ সালে দেশটি ৮ কোটি ৬৬ লাখ টন সয়াবিন রফতানি করেছে। ২০২০ সালে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ২৩ লাখ টন। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সিরিয়াল এক্সপোর্টার্সের (এএনইসি) বার্ষিক রফতানি প্রতিবেদনে এমনটা দেখা যায়।

এএনইসি জানায়, ২০২১ সালে দেশটির সয়াবিনের সর্বোচ্চ ক্রেতা ছিল চীন। এ সময় চীনে প্রায় ছয় কোটি টন সয়াবিন রফতানি করেছে ব্রাজিল। সংস্থাটি জানায়, ২০২০-২১ মৌসুমে ব্রাজিলের সয়াবিন উৎপাদন যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পরিমাণ স্পর্শ করেছে। উল্লিখিত মৌসুমে দেশটিতে সয়াবিনের উৎপাদন দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৭১ লাখ টন। উৎপাদনের এ পরিমাণ দেশটিকে আগের বছরের তুলনায় রফতানিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে। এর আগে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ছিল ২০১৮ সালে ৮ কোটি ৩৮ লাখ টন।

২০১১ সাল থেকে ব্রাজিলের সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ক্রমে বাড়ছে। ২০১১ সালে দেশটির সয়াবিন রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ টন। ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর ব্রাজিলের রফতানীকৃত সয়াবিনের পরিমাণ গড়ে ৮ কোটি ১২ লাখ টন।

অন্যদিকে চলতি মৌসুমে ব্রাজিলের ভুট্টা উৎপাদন দাঁড়াবে ৮ কোটি ৫৮ লাখ টন, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম।