চীনে গত মাসে কয়লা আমদানি বেড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। চাহিদা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশায় ইউটিলিটিগুলো ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়াই আমদানিতে এমন উল্লম্ফনের মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান কয়লার ওপর থেকে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়াও আমদানি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী। দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, মার্চে ৪ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা আমদানি করা হয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ আমদানি।

দেশটি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গড়ে ৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টন করে কয়লা আমদানি করেছিল। সে তুলনায় আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। অন্যদিকে গত বছরের মার্চের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১৫১ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন ১০ কোটি ১৮ লাখ টন কয়লা আমদানি করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চীনে কয়লার চাহিদা বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফিয়ে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দেশটির অর্থনীতি নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠছে। 

এদিকে তুলনামূলক কম দামের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে জ্বালানিটির আমদানি বাড়িয়েছে চীনের ইউটিলিটি ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। নিকট ভবিষ্যতে দেশটি থেকে আমদানি আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই চীন ও অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে কয়লা আমদানি বন্ধ করে দেয় চীন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল চীনের আমদানীকৃত কয়লার সবচেয়ে বড় উৎস। অস্ট্রেলিয়ার নেতারা বলছেন, কয়লা আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হবে।

চীনের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে। কয়লা স্বল্পতায় ২০২১ সালের শেষের দিকে যেভাবে দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউট হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় বেইজিং। দেশটির জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন জানায়, ২০২২ সালে রেকর্ড ৪৪৫ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছে চীন।

নিষেধাজ্ঞার আগে ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে তিন কোটি টনেরও বেশি ধাতব কয়লা ও প্রায় পাঁচ কোটি টন তাপীয় কয়লা ক্রয় করে চীন। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিকল্প হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ামুখী হতে হয়েছিল দেশটিকে।