এক দশকের বেশি সময় পর জাপানের অর্থনীতি মূল্যস্ফীতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান সুদহার পরিবর্তন ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় দেশটির ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য ব্যাংকগুলো নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। খবর রয়টার্স।

সুদহার পরিবর্তনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও ব্যাংকের কর্মীরা উচ্চ সুদহার নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এখনো সেভাবে প্রস্তুত নয়। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে থাকা ঋণদাতারা ব্যাংকের তরুণ কর্মীদের ক্র্যাশ কোর্সের মাধ্যমে সুদহার নিয়ে কাজ করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

জাপানে দ্রব্যমূল্য সবসময় স্বাভাবিকই ছিল। সেখান থেকে হঠাৎ করে মূল্যস্ফীতিতে প্রবেশ করার কারণে সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে। আর এটি দেশটির অধিকাংশ ব্যাংকের জন্য সতর্কবার্তা। ব্যাংক খাতের প্রবীণ কর্মকর্তারা জানান, কর্মীদের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনার জন্য ঋণদাতাদের কাজ করতে হবে। তা না হলে বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।

রেজোনা হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী মাসাহিরো মিনামি এক সাক্ষাৎকারে জানান, ২০০৬ সালে জাপান শূন্য সুদহারের সময় শেষ করেছে। ফলে ব্যাংক খাতের সম্মুখে থাকা কর্মীদের প্রথমবারের মতো বর্ধিত সুদহারের মধ্যে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ সময় গ্রাহকদের আচরণ কীভাবে পরিবর্তন হয়, তা সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সেসব পরিবর্তন গ্রহণ করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রণোদনার কারণে আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে শিল্প খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জাপানে সুদহার শূন্যে ধরে রাখার মাধ্যমে বড় ব্যাংকগুলো বিদেশে ও জটিল আর্থিক পণ্যে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তবে ঊর্ধ্বমুখী সুদহারের মধ্যে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করবে কিনা সেটিও দেখার বিষয়।

প্রধান মানি মার্কেট ব্রোকারেজ টোকিও তানশির থিংকট্যাংক শাখার প্রধান ইজুরু কাটোর সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংক প্রায় সময়ই যোগাযোগ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের বৈঠক ও সেমিনারে অংশ নেয়ার অনুরোধ আসতে শুরু করে। তবে অক্টোবর থেকে এর পরিমাণ বেড়েছে। বিশেষ করে যখন ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) দীর্ঘমেয়াদি সুদহারের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায়।’

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ব্যাংকের কর্মীদের জন্য ৭০টির বেশি শিক্ষামূলক সেশনের আয়োজন করেছে মিৎসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ। সুদহার পরিবর্তনের সময় কীভাবে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে সে বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।