জুবাইল ফার্মা ও আরআর হোল্ডিং কোম্পানির সঙ্গে সম্প্রতি সৌদি আরবের ন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এনআইডিসি) একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি মূলত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় রাসায়নিক সামগ্রীর উৎপাদনে অগ্রগতি আনতে স্থির করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর আরব নিউজ।
নতুন অংশীদারত্ব দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের প্রয়োজনীয় উপাদান, মধ্যবর্তী উপকরণ ও রাসায়নিক সামগ্রী উৎপাদন স্থানীয়করণে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সেক্টরটিতে বিনোয়োগের ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করতেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জুবাইল ফার্মা সৌদি ফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি এবং আরআর হোল্ডিং কোং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি, যা তেল, গ্যাস, জ্বালানি ও টেক্সটাইলের মতো বিভিন্ন উৎপাদন শিল্পে কাজ করে।
‘এক্স’ (আগে যা টুইটার ছিল)-এ এনআইডিসির একটি প্রেস রিলিজ দেয়া হয়। যাতে বলা হয়, স্থানীয় পেট্রোকেমিক্যালস ও ফার্মা উপাদান উৎপাদনকে বৃদ্ধি করার কৌশল হিসেবে এ চুক্তি করা হয়েছে। এনআইডিসি আরো বলেছে, এ অংশীদারত্ব দেশটির স্থানীয় ওষুধ উৎপাদনকে বাড়াবে এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এনআইডিসির লক্ষ্য সৌদি আরবের জনগণের স্বাস্থ্য চাহিদা সুরক্ষিত করার জন্য একটি স্বাধীন ওষুধ খাত তৈরি। এতে দেশটির ক্ষমতাও আরো শক্তিশালী হবে। এনআইডিসির রিলিজ অনুসারে, বিনিয়োগের আকারের দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম সেক্টর হলো সৌদি আরবের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টর। এ অঞ্চলের মোট বিনোয়গের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে এ সেক্টর থেকে।
দেশটিতে বর্তমানে ফার্মা সেক্টরে ৪০টি স্থানীয় কারখানা রয়েছে, যা সৌদি আরবের মোট চাহিদার ২৯ শতাংশ পূরণ করছে। এ সেক্টর থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়নের ওপর রাজস্ব আয় আসে। ইউএসভিত্তিক ফিচ রেটিংয়ের গবেষণা শাখা ফিচ সলিউশনের মতে, সৌদি আরবের ফার্মাসিউটিক্যাল বাজার মূল্য ছিল ২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন সৌদি রিয়াদ, যা বার্ষিক ৫ দশমিক ২ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে ২০২৭ সালের মধ্যে বেড়ে ৫৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন সৌদি রিয়াদে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি সরকার বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এবং স্থানীয় ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্কারও বাস্তবায়ন করেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি তারা বিস্তৃত অঞ্চলেও তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করতে চাইছে। সৌদি আরবের কৌশলগত অবস্থান এবং শক্তিশালী লজিস্টিক অবকাঠামো এটিকে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠছে।
ফিচ সলিউশন আরো জানায়, অনেক কোম্পানি দেশটিতে আঞ্চলিক সদর দপ্তর বা বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এটিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অন্যান্য বাজারে নিজেদের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সরবরাহ করতে পারে।










