তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি খসড়া সুপারিশ করে গেজেট প্রকাশ করেছে মজুরি বোর্ড। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত সব শ্রেণীর শ্রমিক-কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশের ওপর যদি কারো কোনো আপত্তি বা সুপারিশ থাকে তাহলে সেটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠাতে হবে। সময়সীমার মধ্যে কারো আপত্তি বা সুপারিশ থাকলে সেটি বিবেচনার পর বোর্ড সরকারের কাছে এটি কার্যকর করার জন্য সুপারিশ করবে।

গেজেটে আরো বলা হয়েছে, ন্যূনতম মজুরি সমন্বয় করে এক বছর কর্মরত থাকার পর শ্রমিক-কর্মচারীদের মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ভিত্তিতে মজুরি বাড়বে। পরবর্তী বছরে ক্রমবর্ধমান হারে পুনরায় মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে বাড়বে। সোয়েটারসহ অন্যান্য গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে ফুরনভিত্তিক মজুরিতে কর্মরত শ্রমিকরাও বার্ষিক ভিত্তিতে মূল মজুরির ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। শ্রমিক-কর্মচারীরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি অনুযায়ী ভাতাদি এবং অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৮ হাজার ২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৪ হাজার ১০০, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-২-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৮০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৯০০, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-৩-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৪০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৭০০, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

গ্রেড-৪-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১৩ হাজার ২৫ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৭ হাজার ৫০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৫২৫, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

একইভাবে গ্রেড-৫-এর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে মূল মজুরি ৬ হাজার ৭০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৩ হাজার ৩৫০, চিকিৎসা ভাতা ৭৫০, যাতায়াত ভাতা ৪৫০ এবং খাদ্য ভাতা ১ হাজার ২৫০ টাকা।

অন্যদিকে পোশাক কারখানার কর্মচারীদের জন্য মজুরির চারটি গ্রেড সুপারিশ করেছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। গ্রেড-১-এ ১০ হাজার ৯০০ টাকা মূল মজুরিতে মোট বেতন সুপারিশ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮০০ টাকা। গ্রেড-২-এ ৯ হাজার টাকা মূল বেতনে কর্মচারীদের মোট বেতন হবে ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

এছাড়া গ্রেড-৩-এ ৮ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতনে মোট বেতন ১৫ হাজার ২০০ টাকা এবং গ্রেড-৪-এ ৬ হাজার ৯০০ টাকা মূল বেতনে মোট বেতন ১২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার কথা জানান। ওই সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা এটা ঘোষণা করছি। ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে। ৮ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হবে। সঙ্গে বছরে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকবে।