চলতি বছরের জুলাইয়ে ভারতের বাণিজ্য কমলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থিতিশীল ছিল। একইসঙ্গে বেসরকারি খাত থেকে বিনিয়োগের পুনরুদ্ধারের কিছুটা আশা জাগিয়েছে। যদিও জুলাইয়ে পণ্যদ্রব্যের রফতানিতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। তবে তথ্য বিশ্লেষণ করলে ভারতীয় অর্থনৈতিক দিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। খবর দ্য হিন্দু।

জুলাইয়ে ভারতের ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানি ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয় ৪৭০ কোটি ডলারের রেকর্ড করেছে। যার কারণে বিনিয়োগ সম্পর্কিত আমদানি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। জুনে সাময়িক বিরতির পর বিনিয়োগ সম্পর্কিত আমদানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রনিকবহির্ভূত খাতে যন্ত্রপাতি আমদানি যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিস লিমিটেডের (ক্রিসিল) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পুনরুদ্ধার বিনিয়োগনির্ভর আমদানিতে ইতিবাচক গতিকে এনেছে।

রফতানি ও আমদানি কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অনুঘটক ছিল পেট্রোলিয়াম ও জুয়েলারি খাত। জ্বালানি তেল, স্বর্ণ বাদে প্রকৃত রফতানি ও আমদানি যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মধ্যম সংকোচন দেখেছে।

আশার বিষয় হলো আমদানিগুলো মৌসুমভিত্তিক ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। জুনে প্রকৃত আমদানি কমার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যন্ত্রপাতি ও তার সরঞ্জাম সম্পর্কিত বিনিয়োগগুলোর মাধ্যমে গতি পেয়েছে এমনটাই উল্লেখ করেছে ক্রিসিল। প্রকৃত রফতানিও জুন থেকে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শেষার্ধে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ধীর হলে চলমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধিতে ধীর গতির আশঙ্কা থাকলেও ভারতের আমদানি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই বাণিজ্য ঘাটতি জুলাইয়ে ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার উন্নীত হলেও এখনো দুশ্চিন্তা কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি। এদিকে কোয়ান্টইকো অর্থনীতিবিদরা সতর্কবার্তা জানায় যে প্রকৃত বাণিজ্য ঘাটতি জুনে সর্বোচ্চ হয়েছে, যা ৬৮০ কোটি ডলার থেকে ১ হাজার ৩০ কোটি বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, আগামীতে মাসিক পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ২০২২-২৩ সালের মতো থাকবে। সিআরবি কমোডিটি ইনডেক্সের আগস্টে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এটি ২০২৩-২৪ সালের বাকি মাসগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। এছাড়া কৃষিপণ্যের ওপর ভারতের রফতানি বিধিনিষেধ বাণিজ্য ঘাটতির সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। 

ক্রিসিল আরো জানায়, রফতানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়া বিষয়টি এখন কেবল পশ্চিমা অঞ্চলগুলোয় সীমাবদ্ধ নেই। উদীয়মান বাজারের সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও চাহিদা কমেছে। ভারতের এ বৃহত্তম আঞ্চলিক রফতানি অঞ্চলেও ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ রফতানি কমেছে। 

এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি যথাক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ ও ১৩ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, একই সময়ে আফ্রিকায় রফতানি ২২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। রফতানিতে বড় মাত্রার এই পতন বিভিন্ন বাজারকে প্রভাবিত করে একটি জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।