ভিশন-২০৪১ অর্জনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সংযোগ স্থাপনে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদেশী উদ্যোক্তারা। গতকাল ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত বিনিয়োগ মেলার সমাপনী দিনের এক অধিবেশনে তারা এ আহ্বান জানান। 

‘ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট: কারেন্ট ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড ভিশন ২০৪১’ শীর্ষক এ অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। মূল বক্তব্য রাখেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফআইসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী।

অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বিগত পাঁচ দশকের গৌরবময় যাত্রায় বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে অনন্য স্থান নিশ্চিত করেছে। নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজার ও তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে ভিশন-২০৪১ অর্জনে বাংলাদেশ একটি মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনকে উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গণ্য করে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে।

তারা আরো বলেন, ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ওপর আরো বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন। এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ও টেকসই প্রচেষ্টা তুলে ধরবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব শক্তিশালী করতে ব্যাপক নীতি অনুসন্ধান, কৌশলগত সংস্কার ও উদ্যোগ অপরিহার্য।

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এমসিসিআইয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেট্রো ঢাকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউহি অ্যান্ডো, কোরিয়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির ঢাকা কোরিয়া ট্রেড সেন্টারের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (মহাপরিচালক) সামসু কিম প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পুঁজির প্রবাহকে সহজতর করতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগজনিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, বৈচিত্র্যের প্রচার এবং লজিস্টিক নীতিগুলোকে উন্নত করা আবশ্যক।’ ৬০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এফআইসিসিআই দুই দিনব্যাপী বিনিয়োগ মেলার আয়োজন করে। গতকাল এ মেলা শেষ হয়েছে।