চলতি বছরের শুরুটা হয় নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের আশঙ্কা নিয়ে। দ্বিতীয় মাস পার না হতেই নতুন সংকট দেখা যায় রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে। এ অবস্থায় অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) তথ্য বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর জের ধরে চলতি বছরের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হারও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। খবর এপি।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন। ওইসিডি জানায়, চীনের শূন্য কভিড নীতির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কাটিয়ে উঠে সবেমাত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নেমেছিল দেশটি। তবে করোনার প্রকোপ আবারো বাড়ায় নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয় চীনের বাণিজ্য কেন্দ্র সাংহাইয়ে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারছে না দুই দেশের সরকার। সবমিলিয়ে এ বছরের বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ওইসিডি। যেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
ওইসিডির সদস্যভুক্ত ৩৮টি দেশের জন্য এ বছরের মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯ শতাংশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত বড় অর্থনীতির দেশগুলোও। ওইসিডির পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ)।
এ বিষয়ে প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ওইসিডির সাধারণ সচিব মাথিয়াস করম্যান বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবশ্যই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিপন্ন দশায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র দেশগুলো বলে সতর্ক করেছে ওইসিডি। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানির প্রধান সরবরাহকারী। ফলে যুদ্ধের জের ধরে প্রধান খাদ্য গমসহ জ্বালানির সরবরাহতেও প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এতে করে মূল্যস্ফীতির হারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও ব্যাহত হচ্ছে।










