আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হবে ভারতের ২০২০-২১ চিনি বিপণন মৌসুম। মৌসুমের সাত মাসে দেশটি ৫১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি রফতানি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিনি রফতানি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। অল ইন্ডিয়া সুগার অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসটিএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ২ লাখ ২ হাজার ৫২১ টন চিনি রফতানি গন্তব্যের উদ্দেশে বন্দর ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এছাড়া ৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৩৭ টন চিনি বন্দরভিত্তিক পরিশোধকদের কাছে সরবরাহের লক্ষ্যে বন্দর ছেড়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়াই ওপেন জেনারেল লাইসেন্সের অধীনে অতিরিক্ত আরো আট লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করেছে বিভিন্ন মিল।

এআইএসটিএর দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারতের চিনিকলগুলো ৫১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি রফতানি করে। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই রফতানি হয় ১৬ লাখ ৯০ হাজার টন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চিনি রফতানি হয় আফগানিস্তানে। দেশটিতে ভারত ৬ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৭ টন চিনি রফতানি করেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৮১৬ টন। শ্রীলংকায় রফতানির পরিমাণ ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৮০ টন।

এআইএসটিএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রফতানীকৃত এবং রফতানির অপেক্ষায় থাকা চিনির মূল্য ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এটি ভারতের রফতানি আয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মহামারীকালীন সংকটের মধ্যে চিনিকলগুলোকে নগদ অর্থ এনে দিচ্ছে। ফলে আখচাষীদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, ভারত থেকে ১২ লাখ টন চিনি কিনতে পারে ইরান। এর বাইরেই ভারত চলতি মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্ববাজারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে ভারতকে বেশকিছু বিচক্ষণ কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে ইরানে চিনি রফতানি বাড়ানো যায়। ইরানে রফতানি বাড়াতে সক্ষম হলে ভারতীয় চিনির বাজার আরো সম্প্রসারণ হবে বলে জানায় এআইএসটিএ।

ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। কিন্তু সম্প্রতি খরা ও তীব্র তুষারপাতের প্রভাবে দেশটির চিনি খাত ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত। ব্রাজিলে চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম। এমন অবস্থায় বিশ্ববাজারে বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ভারত।