সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে একটি এক্সচেঞ্জ হাউজ কেনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের পর্ষদ। গতকাল অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ভিত্তিতে এক্সচেঞ্জ হাউজ কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

এক্সচেঞ্জ হাউজ কেনার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিয়ে গতকাল একটি মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। তবে এতে এক্সচেঞ্জ হাউজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়ার বাইরে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অনেক ব্যাংকই বর্তমানে এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স আনার মাধ্যমে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ খাতের ব্যবসায় এতদিন ইস্টার্ন ব্যাংকের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাই ব্যাংকটি এ খাতের ব্যবসায় যুক্ত হতে চাইছে। তাছাড়া বর্তমানে ডলারের সংকট চলছে। এ অবস্থায় এক্সচেঞ্জ হাউজের ব্যবসায় যুক্ত হলে তা বৈদেশিক মুদ্রা সংকট কাটাতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ব্যাংকটি। এসব কারণেই এক্সচেঞ্জ হাউজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১১ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ২৯ পয়সায়, আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৩০ টাকা ৯৪ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)।  

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটি ইপিএস বেড়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।