চলতি বিপণন মৌসুমে ভারতের চিনি রফতানি এক কোটি টন চিনি রফতানি করতে যাচ্ছে। মৌসুমের প্রথম সাত মাসে দেশটি প্রায় ৮৫ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে। আগামী পাঁচ মাসে রফতানির জন্য দেশটি আরো ১৫ লাখ টনের চুক্তি সম্পাদন করেছে। দেশটির ব্যবসায়ী সরকারি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিনি উৎপাদক ও ব্যবহারকারী। ২৪ মে দেশটির সরকার চিনি রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। গত ছয় বছরের মধ্যে প্রথম পণ্যটির রফতানি বিধিনিষেধের মুখে পড়ল। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক মৌসুমে এক কোটি টনের বেশি চিনি রফতানি করা যাবে না।

এছাড়া ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যেকোনো রফতানির ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন বা রফতানি ছাড়পত্র নিতে বলা হয়েছে রফতানিকারকদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বিধিনিষেধ আরোপের আগ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত কার্গোগুলোর মাধ্যমে ভারতের চিনিকলগুলো ৮৫ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চিনির দাম বর্তমানে বেশ লাভজনক। ঊর্ধ্বমুখী আন্তর্জাতিক বাজারদরের সুবিধা নিতে চান ভারতের মিল মালিকরা। তারা সরকারের রফতানি ছাড়পত্র ইস্যু করার অপেক্ষায় আছেন।

এক গ্লোবাল ট্রেডিং হাউজের মুম্বাইভিত্তিক ডিলার বলেন, বর্তমানে চিনির আন্তর্জাতিক বাজারদর রফতানিকারকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। পাশাপাশি বাজারে ভারতীয় চিনির বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। ভারত খুব সহজেই এক কোটি টন চিনি রফতানি করতে পারবে।   

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখ মাড়াই কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে। মিলগুলো এরই মধ্যে তাদের অপরিশোধিত চিনির বেশির ভাগ মজুদ বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে আগামী মাসগুলোয় তারা স্বাভাবিকভাবেই সাদা চিনি বিক্রি করবেন। 

তথ্য বলছে, ভারত চিনির চলতি বিপণন মৌসুম শুরু হয় ১ অক্টোবর। ঠিক একই সময় শুরু হয় আখ মাড়াই কার্যক্রমও। এপ্রিল নাগাদ মাড়াই কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত ভারতীয় চিনি ৪৬৫-৪৭০ ডলারে ফ্রি অন বোর্ডে (এফওবি) বিক্রির প্রস্তাব করছেন। এক্ষেত্রে সাদা চিনির দাম ধরা হচ্ছে টনপ্রতি ৪৮০-৪৮৫ ডলার।