শ্রীলংকায় কয়েক দশকের সর্বনিম্নে নেমেছে চা উৎপাদন। সার সংকটও প্রকট। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটি চা রফতানি থেকে ১৪০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উদ্দেশ্য ডলার সংকট নিরসনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরিয়ে আনা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

চলতি বছর দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে গেলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। এর ফলে ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটি জ্বালানি, খাদ্য, রান্নার গ্যাস ও ওষুধসহ সব ধরনের পণ্য আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে।

শ্রীলংকার চা শিল্প শীলন চায়ের জন্য বিখ্যাত। ২০২১ সালে সার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে শীলন চা উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বছর রিজার্ভ সংকটের কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়েছে।

তবে নানা কারণে দেশটির চা শিল্প এখনো লাভের মুখ দেখছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলংকার মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটেছে। এ কারণে কম রফতানি করলেও আয় বেশি আসছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চায়ের দাম বেশি থাকায় দেশটি উপকৃত হচ্ছে। প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব শ্রীলংকার মুখপাত্র রোশান রাজাদুরাই জানান, এ বছর চা রফতানি থেকে ১৪০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

চা শ্রীলংকার অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। পণ্যটি থেকে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটি রিজার্ভ আবারো পরিপূর্ণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব শ্রীলংকার চেয়ারম্যান সেনাকা আলাওয়াতেগামা বলেন, চলতি বছর চা উৎপাদন অন্তত ৪ কোটি কেজি কমছে। ফলে এ বছর ৩০ কোটি টনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে সরকার কৃষিনীতি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সেনাকা আরো বলেন, আগামী বছরও রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১৪০-১৫০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে। গত বছর দেশটি চা রফতানি থেকে ১৩০ কোটি ডলার আয় করেছিল।

ইরাক, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত শ্রীলংকান শীলন চায়ের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। চলতি বছর রাশিয়া তুরস্ককে পেছনে ফেলে এ তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষে উঠে এসেছে।