বিগত বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ২০ শতাংশ বেশি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) ৬০তম বর্ষপূর্তি ও বিনিয়োগ মেলা ২০২৩-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান ও মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ‘ক্যাটালাইজিং গ্রেটার এফডিআই ফর ভিশন ২০৪১: প্রায়োরিটিজ ফর বিল্ডিং এ কনডিউসিভ ট্যাক্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা বই এবং ‘ইএসজি স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট ফ্রম দ্য মেম্বারস অব এফআইসিসিআই’ শীর্ষক একটি প্রকাশনারও উদ্বোধন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন ১০০টিরও বেশি অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ২০ শতাংশ বেশি এফডিআই আসবে বলে আমরা সবাই আশাবাদী। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়নে এফআইসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামীতেও এ ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে প্রতিভার মূল্যায়ন ও সে অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এফআইসিসিআই। বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সব বিনিয়োগকারীর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে নিজেদের অংশীদারত্বকে স্থায়ী করে বাংলাদেশকে একটি শান্তিপূর্ণ বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এফআইসিসিআইয়ের সদস্যরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
এফআইসিসিআইয়ে সহসভাপতি দীপল আবেউইক্রমা বলেন, ‘বিশ্বের ৩৫টি দেশ থেকে ২১টি ব্যবসায়িক খাতে এফডিআই অর্জন করেছে এফআইসিসিআই। আমি আশা করি, এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে আমাদের ধারণা বিনিময় ও মূল খাতগুলোকে চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।’
অনুষ্ঠানে ‘গ্রিন ভ্যালু চেইন’ শীর্ষক একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন স্মার্ট বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের সহসভাপতি এবং সাবেক মুখ্য সচিব ও মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ। আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ইমরান রহমান; এফআইসিসিআইয়ের ইএসজি কমিটির সভাপতি ও পরিচালক জাভেদ আখতার; বিল্ডের সভাপতি ও এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির; বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রচার বিভাগের সদস্য-৩ মোহসিনা ইয়াসমিন; ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার; ইউএনডিপি’ আঞ্চলিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার; গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান প্রমুখ।
সেমিনারে কৃষিজমির ক্ষতি, পানীয়জলের অভাব এবং ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে অধ্যাপক ইমরান রহমান বলেন, ‘প্রতিকূল জলবায়ু পরিস্থিতিজনিত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া এ পরিস্থিতি সামলে উঠতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকতে হবে।’ ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘একটি পণ্য বাজারজাত ও বিক্রি করার পর এর ব্যবহার নিয়ে আমরা সজাগ থাকি না, যা কিছু পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্যে পরিণত হয়। গুণগত মান রক্ষা করে পণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সেমিনারের প্রধান অতিথি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইএসজি ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে সবুজ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ ব্যাপারে সজাগ থাকবে এবং গবেষণালব্ধ নিত্যনতুন ধারণা পাওয়া যাবে।’
দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইনভেস্টমেন্ট এক্সপোতে এফআইসিসিআইয়ের সদস্য ও বিভিন্ন সরকারি স্টেকহোল্ডারদের পরিচালনায় ৪০টি স্টল রয়েছে। ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এ এক্সপো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এফআইসিসিআইয়ের ৬০তম বর্ষপূর্তি ও ইনভেস্টমেন্ট এক্সপো ২০২৩-এর কৌশলগত অংশীদার ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিডা।










