বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু তারাও ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পণ্যটি উৎপাদন করতে পারছে না। চাহিদা ও উৎপাদনের এ অসামঞ্জস্যের কারণে নিকটভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েলের মজুদে বড়সড় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে এ ভোগ্যপণ্যের মজুদ প্রায় অর্ধেক কমে ২৬ লাখ ৭০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে। খবর রয়টার্স।
২০২০ সাল শেষে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল মজুদের পরিমাণ ছিল ৪৮ লাখ ৭০ হাজার টন। চলতি বছর শেষে এর পরিমাণ আরো ৪৫ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করছে অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান তোগার সিতাংগাং সম্প্রতি ভার্চুয়াল পাম অ্যান্ড লরিক অয়েলস প্রাইস আউটলুক কনফারেন্সে জানান, গত বছর লাগাতার আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন কম হয়েছে। চলতি বছর ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৯০ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে নভেল করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম গতিশীল হওয়ায় কভিড-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাম অয়েলের চাহিদাও ক্রমশ বাড়বে। তোগারের হিসাব অনুযায়ী, রফতানি ও অভ্যন্তরীণ বাজার মিলিয়ে চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েলের চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বাড়বে।
২০২০ সালে ৩ কোটি ৪০ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি করেছিল ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছর তা বেড়ে ৩ কোটি ৭৬ লাখ টনে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বায়োডিজেল ও ওলিওকেমিক্যালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও পণ্যটির চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতনের পর ইন্দোনেশিয়া তাদের বি৩০ বায়োডিজেল প্রকল্পে গতি আনার উদ্যোগ নেয়। আর এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য দেশটি পাম অয়েল রফতানিতে শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
তোগার বলেন, বর্তমানে বাজারের যা পরিস্থিতি এবং যে শুল্কহার বলবৎ রয়েছে, তাতে বায়োডিজেল প্রকল্পকে সহায়তার জন্য চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ থাকবে। তবে বাজারের যেকোনো পরিবর্তন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
তোগারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইন্দোনেশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েলের লেনদেন মূল্য টনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১৫০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েলের গড় লেনদেনমূল্য প্রায় ৮৮৩ ডলার। ইন্দোনেশিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশ মালয়েশিয়া।










