ভারত সরকারের নতুন পাইলট বিশ্রাম বিধির কিছু অংশের শিথিল সুবিধা পাচ্ছে দেশটির বৃহত্তম এয়ারলাইনস সংস্থা ইন্ডিগো। মূলত চলমান ফ্লাইট বাতিল সামাল দিতে পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে। এতে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাইলটদের বৈশ্বিক প্লাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনস (আইএফএএলপিএ)। সংস্থাটি বলছে, সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে নেয়া হয়নি। এটি উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। খবর রয়টার্স।

ভারতে ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বলা হয়েছিল, রাতের দায়িত্ব ও পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে ইন্ডিগো যথাযথ প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়। ফলে চলতি মাসে দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়ে। অনেকের ছুটির পরিকল্পনা, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিয়ের সময়সূচি ভেস্তে যায়। লাগেজ হারানোর অভিযোগও বাড়তে থাকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্ডিগোকে একবারের জন্য রাতের দায়িত্ব-সংক্রান্ত নিয়মে ছাড় দেয়। পাইলটের ছুটিকে সাপ্তাহিক বিশ্রাম হিসেবে গণনা না করার বিধানও তুলে নেয়া হয়। তবে আইএফএএলপিএর সভাপতি ক্যাপ্টেন রন হে বলেন, ‘এ পরিবর্তন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়নি। বরং জনবল সংকটের কারণে নেয়া হয়েছে, যা আরো বিপজ্জনক।’

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাইলটদের ক্লান্তি সরাসরি নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে। কঠিন কর্মপরিবেশের কারণে অনেক ভারতীয় পাইলট বিদেশী এয়ারলাইনসে চলে যাচ্ছেন। বিশ্রাম বিধি শিথিল হলে এ সংকট আরো বাড়তে পারে।’

আইএফএএলপিএ বিশ্বব্যাপী পাইলটদের জন্য নির্দিষ্ট ও সমন্বিত মানদণ্ডের দাবি জানাচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে নিয়ম আলাদা হওয়ায় নিরাপত্তায় অসমতা দেখা দেয়। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী নিয়ম বিদ্যমান।

কানাডায়ও একই বিতর্ক চলছে। সেখানকার পাইলট ইউনিয়ন বলছে, নতুন প্রস্তাবিত ছাড় পাইলটদের টানা ২৩ দিন কাজ করতে বাধ্য করবে বা এমন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত ক্লান্তি বাড়াবে এবং উড়োজাহাজ নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।