করোনাকালে দেশে দেশে প্রাকৃতিক রাবারে চাহিদা বাড়তির দিকে রয়েছে। বেড়েছে পণ্যটির বেচাকেনা। এর প্রভাব পড়েছে প্রাকৃতিক রাবারের দামে। সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে টানা ছয় মাস ধরে বাড়তির পথে রয়েছে প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম। এর মধ্য দিয়ে পণ্যটির গড় দাম এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে চলমান মহামারীর দ্রুত লাগাম টানা সম্ভব না হলে আগামী দিনগুলোতেও প্রাকৃতিক রাবারের গড় দামে এ চাঙ্গা ভাব বহাল থাকতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জের প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবরে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম ছিল ২ ডলার ১৯ সেন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় কেজিপ্রতি ৩৩ সেন্ট বেশি। সেপ্টেম্বরে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম ছিল ১ ডলার ৮৬ সেন্ট।

এর মধ্য দিয়ে টানা ছয় মাস ধরে সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রাকৃতিক রাবারের দামে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে অক্টোবরে সর্বোচ্চে উঠেছে পণ্যটির গড় দাম।

গত বছরের অক্টোবরে সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম ছিল ১ ডলার ৪৩ সেন্ট। পরের মাসে পণ্যটির গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ১ ডলার ৫৪ সেন্টে। ডিসেম্বরে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম আরো বেড়ে ১ ডলার ৬৬ সেন্টে উন্নীত হয়।

চলতি বছরের প্রথম মাসে সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম ছিল ১ ডলার ৬৮ সেন্ট। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ১ ডলার ৬১ সেন্টে। মার্চ ও এপ্রিলে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম আরো কমে যথাক্রমে ১ ডলার ৫০ ও ১ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমে আসে।

তবে মে মাস থেকে প্রাকৃতিক রাবারের গড় দামে ধারাবাহিক উত্থান বজায় রয়েছে। মে মাসে পণ্যটির গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ ডলার ৩৫ সেন্ট। পরের দুই মাসে (জুন ও জুলাই) প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১ ডলার ৪০ ও ১ ডলার ৪৮ সেন্টে। আগস্টে প্রতি কেজি প্রাকৃতিক রাবারের গড় দাম আরো বেড়ে ১ ডলার ৭০ সেন্টে উন্নীত হয়।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়লে দেশে দেশে লকডাউন শুরু হয়। স্থবির হয়ে আসে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এর জের ধরে বছরের শুরুর দিকে প্রাকৃতিক রাবারের বেচাকেনা ও দাম দুটোই তুলনামূলক কম ছিল।

তবে ২০২০ সালের মাঝামাঝি এসে দেশে দেশে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম গতি ফিরে পেতে শুরু করে। একই সঙ্গে গ্লাভস তৈরির কারখানাগুলোয় বাড়তে শুরু করে প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা। এর জের ধরে বেচাকেনা বেড়ে যায় পণ্যটির। মূলত এ কারণে গত মে মাস থেকে সিঙ্গাপুর কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রাকৃতিক রাবারের গড় দামে ধারাবাহিক চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে।