কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে বিশ্বজুড়েই খাদ্যমূল্য ছয় বছরের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ কর্তৃক আমদানি শুল্ক বৃদ্ধিও এতে ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের উৎপাদক দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে অন্যান্য অঞ্চলের গম উৎপাদক দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে এ অঞ্চলের গমের ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার গমের বাজারে প্রবেশ নিয়ে রফতানিকারকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হচ্ছে। জাকার্তা ও ক্যানবেরার মধ্যে বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির কারণে আর্জেন্টিনা ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের রফতানিকারকদের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ায় বেশ ভালো অবস্থানে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। চলতি মৌসুমে খরার কারণে ইউক্রেনে গম উৎপাদন কমায় এতে প্রভাব পড়েছে। খবর এফডিআই রিপোর্টস।

মানুষের খাবার হিসেবে গম আমদানিতে শুল্ক আরোপ না করলেও পশুখাদ্য হিসেবে আমদানিতে শুল্ক আরোপ করেছে ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু দি ইন্দোনেশিয়া-অস্ট্রেলিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের আওতায় অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানীকৃত পাঁচ লাখ টন পশুখাদ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এতে বিশ্বের অন্যান্য গম রফতানিকারকদের চেয়ে বেশ অনুকূল অবস্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রফতানিকারকরা।

ঐতিহাসিকভাবে ইন্দোনেশিয়া অস্ট্রেলিয়ার গমের প্রধান রফতানি গন্তব্য হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছিল কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের গম রফতানিকারকদের কাছে। তবে রাশিয়ার রফতানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনের উৎপাদন কমায় পুরনো অবস্থান কিছুটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সামনে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভালো অবস্থান করলেও চলতি বছর উৎপাদন কমায় রফতানি কমছে আর্জেন্টিনার।