বিশ্বজুড়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ লোহিত সাগর। গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের পর থেকে এ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা শুরু করে হুথি বিদ্রোহীরা। পাল্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী যৌথ অভিযানে নামে। তারা ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এতে পিছু হটেনি। উল্টো তারা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ হামলা ও পাল্টাহামলার ফলে আরব অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে। শিল্পোৎপাদন বিশেষজ্ঞ ও মার্কেট বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কভিড-১৯ মহামারীর পর বৈশ্বিক বাণিজ্যের সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করেছে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা।

এ হামলার পর থেকে শিপিং কোম্পানিগুলো লোহিত সাগর এড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহনে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসতে হচ্ছে। এতে তাদের ১২-১৮ দিন পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে জ্বালানি খরচ, কর্মীদের বেতন ও জাহাজ ভাড়া। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদরা নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা করেছেন।

সমুদ্র পরিবহনবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রুরির ওয়ার্ল্ড কনটেইনার ইনডেক্স অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দ্বিগুণ হয়েছে জাহাজ ভাড়া। এছাড়া লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর প্রিমিয়াম ঝুঁকি বীমা বেড়েছে। ব্যাংক নির্বাহীরা এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন যে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিভিন্ন দেশে সুদহার কমানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা কার্যকর করতে দেরি হবে। উল্টো নতুন করে সুদহার বাড়তেও পারে।

সৌদি জ্বালানি তেল জায়ান্ট আরামকোর সিইও আমিন নাসের জানিয়েছেন, হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে হামলা শুরুর পর বাব আল মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে চলছে আরামকো। এ কারণে জ্বালানি তেল গন্তব্যে পৌঁছতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এটা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলে কোনো সমস্যা ছিল না। এটা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি, ফলে সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করছে। দূরের যাত্রায় চলাচল করার জন্য আরো বেশি ট্যাংকার প্রয়োজন কোম্পানিটির।

লোহিত সাগরে সংকট কীভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে হতাশ বিভিন্ন দেশের বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা। শিপিং জায়ান্ট মায়ের্স্কের সিইও ভিনসেন্ট ক্লার্ক জানিয়েছেন, বৈশ্বিক শিপিং চলাচল আরো কয়েকমাস ব্যাহত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, হুথি বিদ্রোহীরা এর আগে দাবি করেছে যে তারা কেবল ইসরায়েলগামী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে সর্বশেষ মার্কিন পণ্যবাহী জাহাজে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। এসব কারণে পাল্টা হামলার পাশাপাশি ‘বিশেষভাবে মনোনীত গ্লোবাল টেররিস্ট গ্রুপ’ (এসডিজিটি) হিসেবে তালিকায় হুথিদের নাম পুনর্বহাল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, দুদিন আগে ইরানি মিডিয়া জানিয়েছে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি গ্রামে আঘাত হেনেছে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র। ইরান বলেছিল, পাকিস্তানের ভেতরে থাকা ইসরায়েলসংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।