বেশ কিছুদিন ধরেই নিকেলের বাজারে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ব্যবহারিক ধাতুটির দাম কমে চার মাসের বেশি সময়ের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। এছাড়া মাসিক দরপতনে শিল্পপণ্যটি আট বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের (এলএমই) শুক্রবার কার্যদিবস শেষে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন নিকেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮০৫ মার্কিন ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম এবং ১৬ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
এদিকে এলএমইতে নভেম্বরে নিকেলের দাম কমেছে আগের মাসের তুলনায় ১৮ শতাংশের কাছাকাছি, যা মাসিক দরপতনে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
স্টেইনলেস স্টিল (মরিচারোধক ইস্পাত) তৈরিতে নিকেল ব্যবহার করা হয়। বিশ্বের শীর্ষ স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদক দেশ চীনে ধাতুটির উৎপাদন কমেছে। ফলে দেশটিতে নিকেলের ব্যবহার রয়েছে নিম্নমুখী। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার নিকেল আকরিক রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রভাবও কমে এসেছে। এসব কারণ ধাতুটির দাম কমাতে প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম বেড়ে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে উঠেছিল। ওই সময়ে বিশ্বের শীর্ষ নিকেল আকরিক উত্তোলনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ধাতব পণ্যটির রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে চীনের স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদনকারী কারখানাগুলোয় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় শিল্প ধাতুটির দাম রেকর্ড বেড়ে যায়। নিকেলের বৈশ্বিক ব্যবহারের এক-তৃতীয়াংশই ব্যবহার করে দেশটি। চীনে এ বছর মোট ২৪ লাখ টন নিকেল ব্যবহারের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষক কেইরান ক্ল্যান্সি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার নিকেল আকরিক রফতানি বন্ধের ঘোষণার পর পরই নিকেলের দাম এক লাফে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে উঠে যায়। মূলত এ সময়ে বাজারের প্রকৃত চাহিদা অপেক্ষা অনুমানমূলক কার্যকলাপের প্রতিফলন ঘটেছিল।
অক্টোবরে এলএমই নিবন্ধিত গুদামগুলোয় ৪৪ হাজার ৭৭২ টন নিকেল মজুদ ছিল, যা ২০০৭ সালের সর্বনিম্ন রেকর্ড থেকে ৫৪ শতাংশ বেশি। তবে আগের বছরের তুলনায় এখনো ৭০ শতাংশের মতো কম রয়েছে।









