রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে সাত মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে নিকেলের দাম। খবর রয়টার্স। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে তিন মাসের হিসাবে নিকেলের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ১৭ হাজার ৪৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর টনপ্রতি দাম সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছেছিল।
সাধারণত ইস্পাত ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারিতে নিকেল ব্যবহার হয়। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, ধাতুটির দাম সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে, যা গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। অ্যামালগামেটেড মেটাল ট্রেডিংয়ের ড্যান স্মিথ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে নিকেলের দাম বেড়েছে। এ সময় সরবরাহ খুবই কম ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে সরবরাহ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয় এবং তা দামের ওপর প্রভাব ফেলে।’
পরিশোধিত নিকেলের পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে অন্যতম দেশ রাশিয়া। ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও ব্রিটেন মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধাতুও রয়েছে।৷তবে ধাতুগুলোর নাম জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র তালিকা প্রকাশ করার পর এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম এক মাসের সর্বনিম্ন ২ হাজার ২১৩ ডলারে পৌঁছেছে। সবশেষে ধাতুটির দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৮২ ডলারে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে আগের সেশনে তামার দাম ৮ হাজার ৬০৮ ডলার ৫০ সেন্ট থেকে দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৫৩৪ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে রাশিয়া থেকে আমদানীকৃত অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ব্যাপক মাত্রায় শুল্কারোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনটি ঘটলে রাশিয়া থেকে নিকেল, প্যালাডিয়ামসহ প্রধান ধাতব পণ্য রফতানি কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
রাশিয়া থেকে খুব স্বল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির মহাকাশসংক্রান্ত শিল্প খাত ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে রুশ নিকেলে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ডিজেলচালিত গাড়ির অটোক্যাটালিস্টস তৈরিতে প্যালাডিয়াম ব্যবহার হয়।
পরিসংখ্যান সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ট্রেড ডাটা মনিটর (টিডিএম) জানায়, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৯২ হাজার ৬২৪ টন নিকেল আমদানি করেছিল। এর মধ্যে ১১ শতাংশই ছিল রাশিয়ার। এছাড়া মোট প্যালাডিয়াম আমদানির ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে রাশিয়া।
ইউক্রেনে চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর অব্যাহত চাপ তৈরির লক্ষ্যে দেশটি থেকে আমদানীকৃত অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কারোপের পরিকল্পনা নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ায় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে রুসাল। ধাতুটির বৈশ্বিক সরবরাহের ৬ শতাংশই আসে কোম্পানিটি থেকে।
লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক লিবেরামের বিশ্লেষক টন প্রাইস জানিয়েছিলেন, এ বাণিজ্যপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে কার্যত কোনো সুফল মিলবে না। যদি এ ধরনের শুল্কারোপ করা হয়, তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাতব পণ্যগুলোর সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাত তৈরি করবে।










