মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিদায়ী বছরের শেষ দুই মাসে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বছর শুরু করেছে দেশটি। বর্তমানে দেশটি সবচেয়ে বেশি রফতানি করছে চীন ও ভেনিজুয়েলায়। খবর রয়টার্স।

২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে পুনরায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেন। উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি তেল রফতানি বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে দেশটির সরকারের আয় কমিয়ে আনা। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের রফতানি আবারো বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরমাণু চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলে ২০১৯ সালে রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। চুক্তি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ গতি না ফিরলেও রফতানি ইতিবাচক ছিল।

এদিকে রাশিয়া ইউরোপে বাজার হারিয়ে এশিয়ার দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়িয়েছে। এক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে চীন ও ভারত। রাশিয়া এসব দেশের জন্য আকর্ষণীয় মূল্যছাড় দিচ্ছে। এ কারণে প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ছে ইরান। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি ইরানের রফতানিতে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়নি।

জ্বালানি পণ্যের বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসভিবি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ডিসেম্বরে ইরান গড়ে দৈনিক ১১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে, নভেম্বরের তুলনায় যা দৈনিক ৪২ হাজার ব্যারেল বেশি এবং ২০২২ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইরানের খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ের চেয়ে বর্তমানে তেহরান জ্বালানি তেল রফতানিতে কম প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। আগের মাসগুলোর তুলনায় চলতি মাসে রফতানিতে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি এসেছে। চীনে নিম্নমুখী চাহিদা ও রুশ সরবরাহের কারণে ইরানের রফতানিকারকদের কিছুটা বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ জ্বালানি তেল চীনেই রফতানি হচ্ছে। এছাড়া ভেনিজুয়েলাকে তেল রফতানিতে সহায়তাও করছে ইরান। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, গত বছরের নভেম্বরে ইরান দৈনিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে, আগস্টের পর যা সর্বোচ্চ।

এফজিইসহ বিভিন্ন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বলছে, ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল ক্রেতা চীন। দেশটি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে বিভিন্ন দেশের নামে ইরান থেকে পণ্যটি আমদানি করছে।