বিদায়ী বছর ভারতের চা উৎপাদন বাড়লেও তা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এখনো বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে পানীয় পণ্যটির উৎপাদন। শিল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
তথ্য বলছে, ২০২১ সালে ভারতের চা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে মহামারীপূর্ব অবস্থার তুলনায় এ উৎপাদন ৪ শতাংশ কম। ফলে পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী।
ভারতের চা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ২০২১ সালে দেশটি ১৩২ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে। ২০২০ সালে উৎপাদন হয়েছিল ১২৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি। সে হিসাবে উৎপাদন ৭ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার কেজি বেড়েছে। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় ৬ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার কেজি কমেছে। ওই বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ৮০ হাজার কেজি।
২০২০ সালে মহামারী প্রতিরোধে গৃহীত লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে চা উৎপাদনে ধস নামে। এ কারণে শিল্পসংশ্লিষ্টরা ওই বছরের পরিবর্তে ২০১৯ সালের সঙ্গেই উৎপাদন পরিস্থিতির তুলনা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের পূর্ববর্তী প্রাক্কলনের তুলনায় উৎপাদন চার থেকে সাড়ে চার কোটি কেজি কমেছে।
আসাম ও পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর ভারতের চা বাগানগুলো মোট চা উৎপাদনের ৮৪ শতাংশই সরবরাহ করে। অঞ্চলটির উৎপাদন ৭ কোটি ৭৭ লাখ কেজি কমে ১০৯ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার কেজিতে নেমেছে। তবে দক্ষিণ ভারতে উৎপাদন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার কেজি বেড়েছে।
ভারতীয় চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বিবেক গোয়েনকা বলেন, উত্তর ভারতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এটি শিল্পসংশ্লিষ্টদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে। সংকুচিত সরবরাহের কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়।
গোয়েনকা আরো বলেন, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২১ সালে উত্তর ভারতের চা উৎপাদন ৭ কোটি ৬০ লাখ কেজি কমেছে। ফলে অতিরিক্ত সরবরাহ কমেছে। চলতি বছরের মার্চে বাজারে নতুন চা উঠলেও দাম ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে।
গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে সব নিলামে উত্তর ভারতের চায়ের গড় দাম ১০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। চলতি বছর প্রতি কেজির মূল্য ১৮৮ দশমিক ২৭ রুপিতে উঠে এসেছে। অথচ গত বছর প্রতি কেজির দাম ছিল ১৭১ দশমিক ৬৫ রুপি। ২০১৯ সালের তুলনায় দাম প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। ওই বছর প্রতি কেজির দাম ছিল ১৪৯ দশমিক ৪৮ রুপি।
গত বছরের নয় মাসে ভারতের চা রফতানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে সস্তা চা আমদানি। ফলে দেশটির চা উৎপাদন খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এদিকে ভারতের বার্ষিক চা রফতানিও কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নানা কারণে ভারতের চা রফতানি কমেছে। এর মধ্যে অন্যতম কার্গো কনটেইনারের দুষ্প্রাপ্যতা। পর্যাপ্ত কনটেইনার না থাকায় রফতানিকারকরা চায়ের চালান যথাসময়ে গন্তব্যে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সম্প্র্রতি ভারতের চা বোর্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরের নয় মাসে দেশটির চা রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ কেজিতে। ২০২০ সালের একই সময় রফতানি করা হয়েছিল ১৫ কোটি ৩০ লাখ কেজি। তবে প্রতি কেজি চা-ই চড়া দামে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করেছে ভারত। অর্থাৎ রফতানি কমলেও আয় ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
চা বোর্ডের তথ্য বলছে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর— নয় মাসে ভারত ৩ হাজার ৭৬৪ কোটি ৬৯ লাখ রুপির চা রফতানি করে। ২০২০ সালের একই সময় রফতানি করা হয় ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি ১৩ লাখ রুপির চা। সূত্র বলছে, রফতানির পরিমাণ কমলেও বেশি দামে প্রতি কেজি চা রফতানি করায় আয় বেড়েছে।










