যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে ৯০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের বোর্ড অনুমোদন দিলে এ ডলার ছাড় দেয়া হবে। নির্বাহী বোর্ড আগামী সপ্তাহে চুক্তিটি চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ঋণদাতা আইএমএফ ইউক্রেনের জন্য বর্ধিত তহবিল সুবিধার অধীনে প্রথম পর্যালোচনা শেষ করার পর জুনে ৮৯ কোটি ডলার মূল্যের তহবিল অনুমোদন করেছিল।

গত মার্চে ইউক্রেন চার বছরের কর্মসূচির অংশ হিসাবে আইএমএফের সঙ্গে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি করেছে। এটা দেশটির জন্য ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার মোট সহায়তা প্যাকেজের অংশবিশেষ।

আইএমএফ কর্মকর্তা গ্যাভিন গ্রে বলেন, ‘জুনের শেষে নির্ধারিত সব মানদণ্ড এবং সেপ্টেম্বরের শেষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে ইউক্রেন। সেই সঙ্গে আইএমএফের বর্ধিত তহবিল সুবিধা কর্মসূচির অধীনে বেশির ভাগ কাঠামোগত মানদণ্ড, সামগ্রিক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখা গেছে।’ গ্যাভিন গ্রে পোল্যান্ডে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ইউক্রেনের অর্থনীতি গত বছর প্রায় ২৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। সংঘাত মানেই একটি অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস অনুসারে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ১৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, যা ২০২১ সালের মোট দেশীয় পণ্যের ৭০ শতাংশের সমান।

ফেব্রুয়ারির মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস ইউক্রেনের রেটিং নামিয়ে আনে জাঙ্ক বা অ-বিনিয়োগ গ্রেডে। ফলে দেশটির অর্থনীতি বাড়তি চাপে পড়ে।

ফিচ রেটিংসের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন অ-বিনিয়োগ গ্রেডে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে পূর্বাভাস করা হয়েছিল, দেশটির অর্থনীতি ২০২৩ সালে ৩ দশমিক ৫ এবং ২০২৪ সালে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করবে।

আইএমএফ জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণ সত্ত্বেও ইউক্রেনের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্থিতিশীল ছিল।

সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ২০২৩ সালের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এটা ২০২৪ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

গ্যাভিন গ্রে জানান, আইএমএফ কর্মীরা ২০২৩ সালে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস পূর্ববর্তী ১-৩ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে বাড়িয়েছে। প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালে ৩-৪ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করবে। তবে এ প্রক্ষেপণ একেবারে অনিশ্চিত। কারণ যুদ্ধ এখনো চলছে।

গ্যাভিন গ্রে বলেন, ‘‌ইউক্রেনের যুদ্ধ জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।’

 বিমান হামলা অব্যাহত এবং অবকাঠামোগুলো ঝুঁকিতে। এছাড়া রাশিয়ার ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ ভেস্তে গেছে। বন্দর ধ্বংস হয়ে ইউক্রেনের রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সামষ্টিক অর্থনীতি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ইউক্রেনের রাজস্ব ঘাটতি অনেক বেশি। যুদ্ধের সময় এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। এখানে ক্রমাগত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আইএমএফ জানায়, ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্যাক্স অডিট সম্পূর্ণ করা। এজন্য একটি আইন প্রণয়ন এবং ডিসেম্বরে জাতীয় রাজস্ব কৌশল চালু করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত রাজস্ব গ্রহণে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশীয় বন্ড বাজার থেকে অর্থায়ন জোগাড় করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বাইরের দেশের ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে হবে। বাজেট অর্থায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ।

গ্যাভিন গ্রে জানান, সুশাসন, দুর্নীতি বিরোধী এবং পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করতে হবে। এটা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।