পেঁয়াজ আমদানির জন্য নতুন করে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ কারণে আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। এতে পাইকারি বাজারে মসলা পণ্যটির দাম কমেছে। তবে আইপি বন্ধের খবরে অনেকে পেঁয়াজ মজুদ করা শুরু করেছেন। এতে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা। দাম স্বাভাবিক রাখতে আইপির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

হিলি স্থলবন্দরে আসা পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন বলেন, আমরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পেঁয়াজ সরবরাহ করি। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আমরা শুনেছি, আইপি বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমাদের থেকে দ্বিগুণ পেঁয়াজ কিনছেন। অন্যদিকে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ থাকায় বেচাকেনা কম। ফলে দাম ২৫-৩৫ থেকে ১৭-২৩ টাকায় নেমে গিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মামুনুর রশীদ বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি করা হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ৩৫-৪০ ট্রাক পেঁয়াজ বন্দরে ঢুকছে। ফলে দুই সপ্তাহ ধরেই পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। ১৭-২৩ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে আইপি বন্ধের ঘোষণার কারণে দাম বাড়তে পারে। এরই মধ্যে অনেকে পেঁয়াজ আমদানি করে গুদামে মজুদ শুরু করে দিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদসংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। আইপি প্রদান চালু আছে। তবে যেসব আইপি ইস্যু করা হচ্ছিল, সেগুলো গতকাল পর্যন্ত সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু কেন এ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছিল এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু ২৯ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের আইপির সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, সেক্ষেত্রে এর পর থেকে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি কৃষি মন্ত্রণালয়ে দেয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল। আইপি ইস্যু না করলে বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজান উপলক্ষে পেঁয়াজ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত আইপি ইস্যু অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।