এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে যাচ্ছে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রবণতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তার মধ্যেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্যাংকটি। খবর এপি।
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা হলেও এ যুদ্ধ এরই মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে লেবানন ও সিরিয়া থেকেও। তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলটিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্বভাবতই এর পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারী। চাপ বাড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে, ইউরোপও যার বাইরে নয়।
২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা ১০ বার সুদহার বাড়িয়েছে ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। অব্যাহত ওই প্রবণতার পর এবারই প্রথমবারের মতো এটি অপরিবর্তিত রাখা বা না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঋণব্যয় স্থির রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডসহ অন্যদের দেখানো পথেই হাঁটবে ইসিবি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অক্টোবরে ইউরোপে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। বিশেষ করে যে ২০টি দেশ ইউরোকে একক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে তাদের মূল্যস্ফীতির ধকল পোহাতে হয়েছে। উচ্চমূল্য ভোক্তা ব্যয়, গৃহস্থালি ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং খাদ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে ইউরোপের মূল্যস্ফীতি কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। যে কারণে বিশ্লেষকদের আশা, হয়তো এথেন্স সম্মেলনে ইসিবি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সময় আরো বাড়াবে।
সুদহার অপরিবর্তিত রাখা বা না বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত সেটি ছাড়াও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মন্দার ঝুঁকি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু এটি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স বলছে, অক্টোবরে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে।
এবিএন আম্রো ব্যাংকে বিশ্লেষকরা জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে দশমিক ১ শতাংশ এবং বছরের শেষ তিন মাসে দশমিক ২ শতাংশ অবনমনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এটির সরবরাহে তেমন প্রভাব পড়েনি। যদিও এ সংঘাতের ফলে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপ আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এখন হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ যদি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতে ইরানসহ অন্য আরব দেশগুলোও যুক্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এর বড় প্রভাব পড়বে।
আইএনজি ব্যাংকের ম্যাক্রো বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান কার্সটেন ব্রজেস্কি বলেন, ‘শিগগিরই ইসিবি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। এর পরিবর্তে করহার দেরিতে বাড়ানো হলে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সেটির কী প্রভাব পড়ে তা পর্যালোচনা করা হবে।’
রেকর্ড সুদহার কতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চে থাকবে সেটি এখন মূল বিষয়। ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড এ বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠানের আগের বক্তব্যই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সুদহার দীর্ঘ সময় ধরে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ তার কথা থেকে এটি পরিষ্কার যে সুদহার এখনই বাড়ানো হচ্ছে না। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ডিসেম্বরে হয়তো ফের সুদহার বাড়ানো হতে পারে।










