চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফার অংকে বড় ধরনের পতন দেখল জাপানি অটোমেকার মিৎসুবিশি মোটরস। মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে চালান কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসায়। খবর নিক্কেই এশিয়া।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে মিৎসুবিশির মুনাফা কমেছে ৩৯ শতাংশ। এ সময় মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ কোটি ইয়েন বা ১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে সর্বশেষ প্রান্তিকে পূর্বাভাস অনুসারে আয় করতে পারেনি মিৎসুবিশি। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় বাজার সম্প্রসারণে উচ্চ অংকের খরচ করলেও প্রতিযোগিতার কারণে ততটা আয় হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি ১ শতাংশ কমে আয় হয়েছে ৬২ হাজার ৭৫০ কোটি ইয়েন। এছাড়া পরিচালন মুনাফা ২১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ইয়েন হয়েছে।

মুনাফা হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সরবরাহ কমাকে দায়ী করা হচ্ছে। এ বাবদ কোম্পানিটি ১ হাজার ৪০০ কোটি ইয়েন পরিচালন মুনাফা হারিয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় ইউরোপে ভোক্তা চাহিদার পতনও মিৎসুবিশির আয়ে প্রভাব ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন, বিক্রয় প্রণোদনা ও বিপণন খরচ মিলিয়ে মিৎসুবিশির মুনাফা আরো ৯৪০ কোটি ইয়েন কমেছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে এখনো বাজার পুনরুদ্ধার নিয়ে আশাবাদী কোম্পানিটি। মিৎসুবিশির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কেনতারো মাতসুকো আর্থিক ফলাফল সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইউনিট হিসেবে খুচরা বিক্রি ও বাজার হিস্যার দিক থেকে এরই মধ্যে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক ও পরবর্তী সময়ে আমাদের পাইকারি চালানে আয় পুরনো ধারায় ফিরে আসবে বলে আশা করি।’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে মিৎসুবিশি মোটরসের খুচরা বিক্রিতে মন্দা দেখা যায়। এ সময় মোট ৫৯ হাজার গাড়ি বিক্রি হয়। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় বিক্রি কমলেও বেড়েছে ফিলিপাইনস ও ভিয়েতনামে।

জাপানি এ অটোমেকার অবশ্য পূর্ণ বছরের পূর্বাভাস আগের ধারায়ই বজায় রেখেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে নিট মুনাফা ৭ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি ইয়েন হবে। তবে বিক্রি ৩ শতাংশ বেড়ে আয় হবে ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন।