পেরুর উপকূলীয় শহর চানকেয়। এখানে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন করছে চীন। যার লক্ষ্য এশিয়া, বিশেষ করে  চীনের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক দৃঢ় করা। খবর রয়টার্স।

এ গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার। চলতি বছরের শেষ দিকে বন্দরটি চালু হওয়ার কথা। বন্দরটি খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলটির সঙ্গে চীনের সরাসরি গেটওয়ে হয়ে উঠবে।

১০ বছর ধরে দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করেছে বেইজিং। বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা ও তামা আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।

চানকেয় গভীর সমুদ্রবন্দরটির অধিকাংশ মালিকানা চায়না কসকো শিপিংয়ের, যা চীনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি। এটিই প্রথম একটি বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা চলে যাচ্ছে চীনের হাতে।

বৃহৎ কার্গো জাহাজগুলো এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো সরাসরি এশিয়ায় যেতে দুই সপ্তাহ সময় কম লাগবে।

বেইজিং ও লিমা উভয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে চানকেয় বন্দরটি একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত হবে। বিশেষ করে আন্দিয়ান অঞ্চল থেকে তামা এবং পশ্চিম ব্রাজিল থেকে সয়াবিন রফতানি সহজ হবে। এসব অঞ্চল থেকে চীনে পণ্য পরিবহনে বর্তমানে পানামা খাল অথবা আটলান্টিক মহাসাগরের রুট ব্যবহার করা হয়।

পেরুর বাণিজ্যমন্ত্রী হুয়ান ম্যাথুস সালাজার বলেন, ‘‌চানকেয় মেগা পোর্টের লক্ষ্য পেরুকে দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক এবং বন্দর হাবে রূপান্তর করা।’

চীনের এক দশকের পুরনো বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ হতে যাচ্ছে পেরুর নতুন বন্দরটি। এর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় বেইজিংয়ের প্রভাব বাড়বে। চীনের প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত লাভবান হবে। এছাড়া দেশটির রাজনৈতিক শক্তিও বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

চানকেয় বন্দরের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শুরু হয় ২০১৮ সালে। স্থানটি পেরুর রাজধানী লিমা থেকে ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) উত্তরে। নির্মাণ শ্রমিকরা পানির মধ্যে শত শত পিলার বসাচ্ছেন, যা চীনা লাল-সাদা জাতীয় পরিচয়ের স্মারক বহন করছে।

চানকেয় বন্দরের প্রথম পর্বের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের নভেম্বরে শেষ হবে। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) সম্মেলন উপলক্ষে ওই সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পেরু সফর করার কথা। লিমার কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ওই সময় শি জিনপিং বন্দরটি উদ্বোধন করতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে লিমায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

কসকো শিপিংয়ের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার মারিও দে লা কসাস বলেছেন, ‘‌এটা চীনের নয়া সিল্করুটের অংশ।’

বন্দরটির পাশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে চায় পেরুর সরকার। অন্যদিকে চানকেয় বন্দরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি করতে চায় কসকো। যাতে এখানে ব্রাজিল থেকে আনা শস্য ও মাংসসহ অন্যান্য কাঁচামাল এশিয়ায় রফতানির আগে প্রক্রিয়াজাত করা যায়।

পেরুতে অবস্থিত ব্রাজিল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ক্লেমেন্তে বিনা সোরেস জানিয়েছেন, ব্রাজিলের ট্রাকগুলো যাতে বন্দরে সহজে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য তারা পেরু সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এটা শস্য ও মাংস রফতানির নতুন সুযোগ তৈরি করবে।