প্রায় ৩০০টি সরু বডির উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে এয়ার ইন্ডিয়া। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রয়াদেশগুলোর একটি হতে পারে। খবর রয়টার্স ও দ্য প্রিন্ট।
গত বছরের শেষদিকে ভারতের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটিকে অধিগ্রহণ করে টাটা গ্রুপ। এরপর ঋণে জর্জরিত এয়ারলাইনসটিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দেশটির বৃহত্তম ব্যবসায়িক গোষ্ঠীটি।
পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া ফরাসি উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের এ৩২০নিও পরিবারের জেট কিংবা মার্কিন নির্মাতা ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল জেট কিংবা উভয় জেটেরই ক্রয়াদেশ দিতে পারে। ৩০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স-১০ উড়োজাহাজের জন্য চুক্তিমূল্য হতে পারে ৪ হাজার ৫০ কোটি ডলার। যদিও এ ধরনের বড় কেনাকাটায় ছাড় থাকে।
ভারতে সরু বডির ক্রয়াদেশ জেতা বোয়িংয়ের জন্য একটি অভ্যুত্থান হতে পারে। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস দেশটির এভিয়েশন খাতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কভিড-১৯ মহামারীর আগে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল উড়োজাহাজ চলাচলের বাজারও ছিল ভারত। ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন লিমিটেডের ইন্ডিগো ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তম ক্রেতা। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ৭০০টিরও বেশি এয়ারবাস উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এছাড়া ভিস্তারা, গো এয়ারলাইন ইন্ডিয়া লিমিটেড ও এয়ারএশিয়া ইন্ডিয়ার বহরেও বহু সংখ্যক এয়ারবাসের জেট রয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার ৩০০টি উড়োজাহাজের উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সম্ভবত কয়েক বছর বা এক দশকেরও বেশি সময় লাগবে। এয়ারবাস প্রতি মাসে প্রায় ৫০টি সরু বডির উড়োজাহাজ তৈরি করে। এ সংখ্যা ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে ৬৫টি এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৭৫টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এয়ারবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা সর্বদা চলমান ও সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। তবে যেকোনো আলোচনা গোপনীয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার মালিক টাটা গ্রুপ দূরপাল্লার এয়ারবাস এ৩৫০ জেটের একটি ক্রয়াদেশ নিয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মডেলটি নয়াদিল্লি থেকে মার্কিন পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।










