পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। দেশটি এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেকোনো উপায়ে রফতানি বাড়াতে চায়। এজন্য জ্বালানি তেল রফতানিতে বিকল্প রুট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে করে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যায়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় দেশটি থেকে জ্বালানি তেলের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি কমেছে।

রাষ্ট্রীয় ওয়েবসাইট সানার প্রতিবেদনে তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানের বরাত দিয়ে বলেছে, তার দেশ মার্কিন চাপকে ভয় পায় না। বরং জ্বালানি তেল রফতানি করতে সম্ভাবনাময় সব পন্থা অবলম্বন করবে ইরান।

এদিকে জ্বালানি তেল রফতানি বাড়াতে এরই মধ্যে ১৮০ কোটি ডলারের পাইপলাইন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক দেশটি। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রফতানি বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ইরানের তেলমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এ পাইপলাইন দক্ষিণের বুশহের রাজ্যের গোরিহি অয়েল টার্মিনাল থেকে ওমান উপসাগরীয় টার্মিনাল জাস্ককে সংযুক্ত করবে। এতে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি হয়ে যেতে হবে না। আর এর জন্যই শুধু জাস্ক বন্দরকে উন্নত করতে ৭০ কোটি ডলার খরচ করবে ইরান।

দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল রফতানির জন্য নতুন রুট নির্মাণের পরিকল্পনা করছিল ইরান। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বাইরে গিয়ে এ রুট নির্মাণের পরিকল্পনা করে দেশটি। সে লক্ষ্য অনুযায়ী জাস্ক বন্দরকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে যাচ্ছে তারা। এছাড়া এ এলাকায় দুটি পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণেরও উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। যার দৈনিক সক্ষমতা ধরা হয়েছে যথাক্রমে তিন লাখ ও দেড় লাখ ব্যারেল।

এর মধ্যে জাস্ক টার্মিনাল দিয়ে দক্ষিণ পার্স ফিল্ড গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০২০ সাল নাগাদ গ্যাস রফতানি করতে চায় ইরান। আর ২০২১ সালের মধ্যে জ্বালানি তেল রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

গত বছরেই ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও নতুন এ রুট নির্মাণের বিষয়ে জানান। সে সময় তিনি জানান, জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য রফতানি খারগ দ্বীপ টার্মিনাল থেকে জাস্ক বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত ২১ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি তেল পরিবহন হয়ে থাকে। বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি তেল রফতানি হয়। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে এ রুটে দৈনিক ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। আর ইরান অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৯০ শতাংশ এ রুট দিয়ে রফতানি করত। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেহরানের দৈনিক রফতানি পরিমাণ ছিল ২৫ থেকে ২৭ লাখ ব্যারেল। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির দৈনিক রফতানি এখন কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ব্যারেলে। 

সানা জানিয়েছে, এরই মধ্যে নির্মিতব্য পাইপলাইনের জন্য ৫০টি পাম্প সরবরাহ করতে তিনটি স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছে দেশটি। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতে, জাস্ক হবে ইরানের কৌশলগত জ্বালানি তেল রফতানির নতুন রুট।

সানা বলছে, জাস্ক টার্মিনাল দিয়ে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল রফতানি করা যাবে। এছাড়া এ টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুদ রাখারও সক্ষমতা