নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) ‘হাউ এশিয়া ইজ লিডিং দ্য গ্রিন ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড হাউ বাংলাদেশ ক্যান বেনিফিট’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনএসইউর সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্সের (সিডিআর) উদ্যোগে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের প্রেসিডেন্ট এবং নরওয়ের সাবেক পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী এরিক সোলহেইম। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এনএসইউর সম্মানসূচক অধ্যাপক পদে ভূষিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এছাড়া উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ এবং চায়না-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যালেক্স ওয়াং উপস্থিত ছিলেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন এনএসইউর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকারিয়া।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরে এরিক সোলহেইম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য এবং ভূমি সংরক্ষণে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সরকার, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় একসঙ্গে কাজ করলে আগামী দশকগুলোয় বাংলাদেশ একটি নেতৃত্বস্থানীয় দেশে পরিণত হতে পারে।’

অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ পরিবেশ নীতিমালা বাস্তবায়নে আরো দৃঢ় অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়িক মহলের অতিরিক্ত মুনাফার প্রতি আকর্ষণ প্রায়ই বিজ্ঞানীদের পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে বাধ্য করে। নীতিমালা থাকলেও ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে অনেক সময় রাজনৈতিক সদিচ্ছা বাধাগ্রস্ত হয়। সমস্যার মূল কারণ সমাধানের অভাব নয়, বরং প্রতিশ্রুতির ঘাটতি; কারণ ব্যবসায়িক প্রভাব প্রায়ই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।’

দ্রুত শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘সবুজ ও টেকসই শক্তি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে দেশে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শিল্পায়নের নামে আমরা প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছি এবং নদীগুলোকে দূষিত করেছি। এ সমস্যা মোকাবেলায় বড় পরিসরের প্রকল্প ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’