যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্যান্সারের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সিজেন কিনতে ৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার চুক্তি করেছে ফাইজার। বিষয়টি ফাইজারের সিইও আলবার্ট বুরলা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার প্রতিরোধে ও ফাইজারের ওষুধ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য এ বিনিয়োগ করছে ফাইজার।’

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি ২২৯ ডলার নগদ মূল্যে সিজেন কিনতে সম্মত হয়েছে ফাইজার। ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়ন এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পন্ন হবে।

ফাইজার প্রত্যাশা করছে, চলতি বছরে সিজেন প্রায় ২২০ কোটি ডলার আয় করবে। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর সিজেনের আয় ১২ শতাংশ হারে বাড়বে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার কোটি ডলারের অধিক আয় করতে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এর আগে ২০২২ সালে সিজেন কেনার জন্য দরকষাকষি করেছে আরেক মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মার্ক শার্প অ্যান্ড ডহমি। ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি ২০০ ডলার করে মূল্য প্রস্তাব করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য ৪ হাজার কোটি ডলারের চুক্তিও প্রায় প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি উভয় পক্ষ। ফলে চুক্তিটি অসম্পন্ন রয়ে যায়। সেই সময়ও সিজেন কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল ফাইজার।

ফাইজারের সঙ্গে চুক্তিটি বাস্তবায়নের এখন মাত্র একটি ধাপ বাকি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনে যেকোনো চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য অ্যান্টিট্রাস্ট নিরীক্ষণ ধাপ উতরাতে হবে। কেননা জো বাইডেন প্রশাসন ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির একত্রীকরণের ওপর কঠোর নজরদারি করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফাইজার ও সিজেনের চুক্তির বিষয়টি ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) নেতিবাচকভাবে নেবে বলে মনে হয় না। যেহেতু কোম্পানি দুটির একই ধরনের পণ্য সীমিত।