একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের তেল সরবরাহে সম্মত হয়েছে ইরাক। ইরাকের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএনএ গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ।

ইরাকের পেট্রোলিয়াম রফতানি তদারককারী সংস্থা এসওএমওর জেনারেল ম্যানেজার আলা আল-ইয়াসিরির একটি সাক্ষাত্কারের বরাত দিয়ে আইএনএ জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি দরদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একটি চীনা কোম্পানিকে বেছে নিয়েছে এসওএমও।

আইএনএ সংস্থাটির নাম উল্লেখ করেনি। প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-কাদিমী এরই মধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন কিনা সেটিও খবরে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

তবে গত মাসে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ইরাকের দরপত্রে বিজয়ী হয়েছে চীনের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারের সহায়ক সংস্থা ঝেনহুয়া অয়েল কোম্পানি।

এসওএমও গত নভেম্বরে ট্রেডিং কোম্পানিগুলোকে এক চিঠিতে পাঁচ বছরের জন্য দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করার প্রস্তাব করেছিল। সেই সঙ্গে এক বছরের মূল্য আগাম পরিশোধের শর্তও ছিল।

ব্লুমবার্গের হিসাবে, এক বছরের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদানের যে শর্ত দেয়া ছিল সেটি বর্তমান বাজারে ২ বিলিয়ন ডলারের কম নয়।

আল-ইয়াসিরি বলেছিলেন, দরপত্রের নির্বাচিত কোম্পানি এক বছরের জন্য আগাম মূল্য পরিশোধিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহের সময়ের ক্ষেত্রে নমনীয় থাকবে এসওএমও। প্রক্রিয়াটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন পেয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

আইএনএ আল-ইয়াসিরির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মোট দামের প্রিমিয়াম হিসেবে বিনা সুদে সুদে ২ বিলিয়ন ডলার অর্থ হাতে পেয়েছে ইরাক। এ দরপত্রে দুটি ইউরোপীয় ও চীনা কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত চীনা কোম্পানি জিতেছে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রি-পেমেন্ট (আগাম মূল্য পরিশোধ) চুক্তি বাগদাদের জন্য এটিই প্রথম। জ্বালানি তেল উত্তোলন নিয়ে বিপাকে থাকা দেশগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ট্রেডিং কোম্পানি ও ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সহায়তা করার চলমান তত্পরতাগুলোর একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত ইরাকের সঙ্গে চীনা কোম্পানির এ চুক্তি।

মার্চে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সমস্ত বৃহৎ রফতানিকারক বেশ ধাক্কা খেয়েছে। এর প্রভাবে আরো দুর্বল অবস্থানে চলে যায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক। সৌদি আরবের পর ওপেকের বৃহত্তম উৎপাদক এ দেশের অর্থনীতি গত বছর ১১ শতাংশ সংকুচিত হয়ে পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

ইরাক সরকার ডিসেম্বরে ডলারের বিপরীতে দিনারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর দেশটির মুদ্রার সর্বাধিক অবমূল্যায়ন এটি। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত হয়ে আসার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয় ইরাক সরকার।

ইরাকে জ্বালানি তেল সরবরাহ দরপত্রটি বিশ্বব্যাপী বৃহৎ ট্রেডিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছেন এ চুক্তির সংশ্লিষ্টরা। চুক্তিটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ একটি হতে পারে। তাছড়া দরপত্র বিজয়ী কোম্পানি এ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এক বছরের জন্য বিশ্বের যেকোনো অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারবে। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রেডিং কোম্পানিগুলোকে নানা ধরনের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হয়।

ইরাকের জ্বালানিমন্ত্রী আল-ইয়াসিরি বলেন, ইরাক ট্রেডিং সংস্থাগুলোকে যে ধরনের নমনীয়তা দিয়েছে তা হলো চালানের সময়, রফতানি গন্তব্য, পুনরায় বিক্রয়ে সম্ভাবনা ও বিপণনের নানা সুবিধা নিজের মতো করে নির্ধারণের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।