ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি ২০৪০ সালের মধ্যে ৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে বিজ্ঞানীরা কাজের জন্য আরো ভালো পরিবেশ পাবেন। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্স।
বেসরকারি সংস্থা একেডি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের মহাকাশ অর্থনীত ১০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও বর্তমানে দেশটির মহাকাশ অর্থনীতি খুব আকর্ষণীয় নয়। তাদের কাছে কেবল ৮০ লাখ ডলার রয়েছে। তবে খাতটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শুধু বিদেশী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেই বড় অংকের অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইউরোপীয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে প্রায় ২৩ হাজার ২৪ কোটি ইউরো এবং মার্কিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে প্রায় ১৮ কোটি ডলার আয় করেছে ভারত।
ভারতের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পরমাণু শক্তি ও মহাকাশবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জিতেন্দ্র সিং জানান, ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থার ন্যায় অনুসন্ধান একটি ভালো গবেষণা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠছে। ফলে একটি উল্লেখযোগ্য শিল্প খাত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ভারতের মহাকাশ সম্পদের ৭০ শতাংশের বেশি বেসরকারি খাত থেকে আসতে চলেছে। সুতরাং এটি দেশীয় সম্পদের পরিপূরক হতে চলেছে।
মহাকাশ খাতে সংকটের মুখে পড়েছে ভারত এমনটা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দারুণ বৈজ্ঞানিক বুদ্ধিমত্তা আছে। আমরা এটি দিয়ে অন্যান্য দেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারতাম। যদিও তারা চাঁদে প্রথম মানুষ অবতরণ করেছিল। তবে আমাদের চন্দ্রযানই প্রথম সেখানে পানির অণু শনাক্ত করেছে।’
তিনি জানান, মহাকাশ খাত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টি রাজনৈতিক নেতাদের সাহসী সিদ্ধান্ত। এটা একই সঙ্গে একটি মাইলফলক। এজন্য বিনিয়োগ ও বিজ্ঞান উভয়ের পরিপূরক হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘এ খাত উন্মুক্ত করার ফলে দেশে মহাকাশ বিজ্ঞানের ধারণা জনপ্রিয় হচ্ছে। পুরো জাতি চন্দ্রযানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এটি বিজ্ঞান, সরকার ও পুরো জাতির জন্য অগ্রগতি।’
তিনি আরো জানান, ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির পরবর্তী উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে গগণযানে মানব মহাকাশযান মিশন। এজন্য একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরীক্ষা এরই মধ্যে হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত একজন মানুষকে মহাকাশে পাঠাবে এবং তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনবে। তবে এর দুই থেকে তিন মাস আগে একটি নারী রোবট মহাকাশে পাঠানো হবে। এটি একজন মহাকাশচারীর সব কাজকর্ম নকল করতে সক্ষম।










