বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি ও যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক থাকলেও ভারতের আপত্তির কারণে দুই দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্য ও যাতায়াত প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি নিরাপদ যাতায়াতও বিঘ্নিত হচ্ছে। কবে রেলপথে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এমন অনিশ্চয়তা দূর করে রেলপথে বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহন পুনরায় চালু করতে নবগঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, এ বন্দর দিয়ে রেল ও সড়কপথে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে গত ১৯ জুলাই থেকে সড়কপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত সীমিত করা হয়। পাশাপাশি রেলপথে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। এর পরপরই ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরই মধ্যে দুই দেশের সড়কপথে আমদানি-রফতানি ও যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। তবে ভারত সরকারের আপত্তির কারণে এখনো রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সেবা বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশটির রেল মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি। অথচ এ পথ দিয়েই ভারত থেকে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, সার, সিমেন্ট তৈরির উপকরণ ও কৃষি যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয়ে থাকে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হতো তার অর্ধেক হতো রেলপথে। কিন্তু রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বন্দরে আমদানির পরিমাণ কমে গেছে।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান জানান, ভারত থেকে রেলপথে বেশির ভাগ শিল্প-কারখানার জরুরি কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু তা বন্ধ থাকায় স্থানীয় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনের মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেলপথে যাত্রী পরিবহন করে বন্ধন এক্সপ্রেস। পাশাপাশি তিনটি কোম্পানি ওয়াগন, পার্সেল ভ্যান ও সাইড ডোর কনটেইনারের মাধ্যমে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ১৯ জুলাই দুই দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্য এবং যাত্রী পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে সরকার পতনের পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে অভ্যন্তরীণ রেল যোগাযোগ শুরু হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রুটে সেবা চালুর জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানালেও তাতে এখন পর্যন্ত সাড়া মেলেনি।









