ল্যাব বা গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম মাংসের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে ইউরোপে বেশ তর্কবিতর্ক হচ্ছে। এর মাঝে একটি ব্রিটিশ কোম্পানি জানিয়েছে, তারা চলতি বছর থেকে পোষা প্রাণীর খাদ্য উৎপাদকদের কাছে কৃত্রিম মুরগির মাংস বিক্রি শুরু করবে। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ‘ল্যাবে তৈরি’ মাংস বাজারজাত করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

স্টার্টআপ ফার্ম মিটলির সিইও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ওয়েন এনসর বুধবার জানিয়েছেন, তাদের পণ্যগুলো এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের অ্যানিমেল অ্যান্ড প্লান্ট হেলথ এজেন্সি (এপিএইচএ) ও ডিপার্টমেন্ট ফর এনভায়রনমেন্ট, ফুড অ্যান্ড রুরাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে অনুমোদন পেয়েছে।

মূলত ব্রেক্সিটের মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোগটি নিয়েছে মিটলি। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ল্যাবে তৈরি মাংস নিয়ে বাধা থেকে মুক্তি মিলেছে।

ওয়েন এনসর বলেন, ‘এর মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবনী ও খাদ্য প্রযুক্তিতে নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থান তৈরিতে যুক্তরাজ্যের অভিপ্রায় বোঝা যাচ্ছে।’

এর আগে ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম ল্যাবে তৈরি গরুর মাংস বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। গত জুনের এ অনুমোদনে বলা হয় ল্যাবে তৈরি মাংস মানুষ খেতে পারবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সির খাদ্য নীতিবিষয়ক ডেপুটি ডিরেক্টর জেমস কুপার জানান, এ ধরনের কৃত্রিম মাংস উৎপাদন নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক আইন অনুসারে হতে হবে। যদি তা হয়, তবে ‘কোষ চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বা সেল কালটিভেটেড প্রডাক্টসের (সিসিপি) মতো বিকল্প উপকরণ ব্যবহার করার জন্য পশুখাদ্য খাতের উদ্ভাবনকে স্বাগত জানাই।’

মেটলির সিইও মনে করেন, যুক্তরাজ্যে ল্যাবে তৈরি পোষাপ্রাণীর খাবারের এ উদ্যোগ বৈশ্বিক ফিড খাতের সূচনাবিন্দু হয়ে উঠবে।

মিটলির একজন মুখপাত্র জাস্ট ফুড ওয়েবসাইটে বলেছেন, কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে পোষাপ্রাণীর খাবারের ওপর নজর রেখেছে। তবে ল্যাবে মাংস তৈরির এ প্রক্রিয়া এবং পণ্যগুলো মানুষের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর। ভবিষ্যতে মানুষের জন্য খাদ্যপণ্য তৈরি করে এমন সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তির লাইসেন্স দেয়া হবে।

মিটলির বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে একাধিক সংস্থা। এখন পর্যন্ত মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম অ্যাগ্রোনমিক্স ও যুক্তরাজ্যে পোষাপ্রাণীর খাদ্যের খুচরা বিক্রেতা পেটস অ্যাট হোমসহ অন্যদের কাছ থেকে ৩৫ লাখ পাউন্ড বা ৪৬ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে। সংস্থাটি আশা করছে, তিন বছরের মধ্যে তাদের উৎপাদন বড় আকারে শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছবে।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইইউভুক্ত দেশগুলোয় নিজেদের বাজারে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে মিটলি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ইসরায়েলে মানুষের খাবার হিসেবে কৃত্রিম মাংসের বিক্রি অনুমোদিত। ইইউ এখনো এ ধরনের মাংসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ইতালি, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া জানিয়েছে, তাদের ব্লক অনুমতি দিলেও দেশগুলো এ-জাতীয় পণ্য নিষিদ্ধ করবে।

ল্যাবে তৈরি মাংসের বিপক্ষে যুক্তি হলো এ ধরনের খাবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো যথাযথভাবে গবেষণা করা হয়নি। এটি গবাদিপশুর খামারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি উচ্চ জ্বালানির ব্যবহারের কারণে এতে পশুপালনের চেয়ে পরিবেশগত ক্ষতি বেশি হয়। 

সাধারণত জীবন্ত প্রাণী, নিষিক্ত ডিম বা স্টোরেজ ব্যাংকের কোষ ব্যবহার করে কৃত্রিম মাংস উৎপাদন করা হয়। এ কোষগুলোকে পানি, চিনি, চর্বি ও ভিটামিনের বিশেষ মিশ্রণে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। বড় হয়ে গেলে মাংসের টুকরোগুলো কাটলেট, নাগেট ও অন্যান্য রূপ দেয়া হয়।