পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের পারপেচুয়াল বন্ডের প্রথম বছরের প্রথম অর্ধবার্ষিকের (চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত) জন্য কুপন পেমেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। আলোচ্য সময়ের জন্য বন্ডটির ইউনিটহোল্ডারদের ১০ শতাংশ কুপন পেমেন্ট হারে মুনাফা প্রদান করা হবে। এ মুনাফাপ্রাপ্তিতে যোগ্য ইউনিটহোল্ডার নির্বাচনে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ জুলাই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর করপোরেট বন্ড শাখায় ‘এন’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে ঢাকা ব্যাংকের এ পারপেচুয়াল বন্ডটি। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ১৫ জানুয়ারি বেলা ২টা পর্যন্ত এ বন্ডের সাবস্ক্রিপশন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮৪১তম কমিশন সভায় এ বন্ডের অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার আনসিকিউরড, কন্টিনজেন্ট কনভার্টেবল, ফ্লোটিং রেট বিশিষ্ট পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যুর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। বন্ডটির ১৮০ কোটি টাকা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও অবশিষ্ট ২০ কোটি টাকা পারলিক অফারের মাধ্যমে ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হয়।
সে অনুসারে বিএসইসির শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, তালিকাভুক্ত ব্যাংক, আঞ্চলিক রুরাল ব্যাংক, ট্রাস্ট, সংগঠন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য যোগ্য বিনিযোগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে এ বন্ড ইস্যু করে ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ঢাকা ব্যাংক। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ও পাবলিক অফারের ক্ষেত্রে এ বন্ডের ন্যূনতম সাবস্ক্রিপশন ছিল যথাক্রমে ৫ কোটি টাকা ও ৫ হাজার টাকা। বন্ডটির কুপন হার ৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ৫ হাজার টাকা।
বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে ঢাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাংকের টিয়ার-১ মূলধনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে। বন্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। আর ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডাররাইটার ও অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
২০০০ সালে শেয়ারবাজারে আসা ঢাকা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৯৪৯ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৪ কোটি ৯৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৪। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৬৫ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২২ টাকা ৮ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে।










