কেরালা, তামিলনাড়ুসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো নারকেল উৎপাদনের জন্য বিশেষ পরিচিত। এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর স্বতন্ত্রতা পণ্যটির বাড়তি উৎপাদন ও গুণগত মান ভালো হওয়ার পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এর জের ধরে দক্ষিণ ভারতে গড়ে উঠেছে নারকেল তেল উৎপাদনের সুবৃহৎ শিল্প। সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোয় নারকেল শাঁসের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নারকেল তেলের দামেও। কাঁচামালের বাড়তি দাম দক্ষিণ ভারতে নারকেল তেলের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ইকোনমিক টাইমস।

গত এক মাসে কেরালায় নারকেলের দাম ৩০ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ১৩২ রুপিতে (ভারতীয় মুদ্রা) উন্নীত হয়েছে। তামিলনাড়ুতে পণ্যটির দাম একটু কম রয়েছে। এখানে প্রতি কেজি নারকেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ রুপিতে।

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে বাড়তির পথে রয়েছে নারকেল তেলের দামও। কেরালার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি নারকেল তেলের দাম উঠেছে ১৮৮ রুপিতে। তামিলনাড়ুতে ১৮৫ রুপি।

অন্যদিকে কর্ণাটকের পাইকারি বাজারে গত নভেম্বরে প্রতি কুইন্টাল নারকেল তেলের দাম উঠেছে ১৫ হাজার রুপিতে। আগের মাসেও পণ্যটির দাম ছিল কুইন্টালপ্রতি ১২ হাজার ৩০০ রুপির আশপাশে। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে নারকেল তেলের দাম বেড়েছে কুইন্টালে ২ হাজার ৭০০ রুপি।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুমে নারকেল তেল জমে যায়। ফলে এ সময় পণ্যটির চাহিদা ও দাম কমতির দিকে থাকে। এবার ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে নারকেল তেলের চাহিদা রয়েছে তুলনামূলক বেশি। ফলে পণ্যটির দামে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

কাঁচামালের সরবরাহ সীমাবদ্ধতার মধ্যে চাহিদা বেশি থাকলে আগামী দিনগুলোয় নারকেল তেলের দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। তখন বাড়তি দামে ক্রেতারা পণ্যটি কিনতে চাইবেন না। বিকল্প তেল ব্যবহারে ঝুঁকবেন তারা। এর জের ধরে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দক্ষিণ ভারতের নারকেল ও নারকেল তেল শিল্প।